কালীগঞ্জে শিবলীকে ঘিরে মাদক মামলা নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিক মানসুরার নেতৃত্বে মানববন্ধনের ডাক
‘নেতার ফোনে নয়, আইনের গতিতে থানা চলুক’—নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি,স্বজনদের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে ফাঁসানো হয়েছে; পুলিশের বক্তব্য জানতে অপেক্ষা
নিজস্ব প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শিবলী নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মাদক মামলা ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা। শিবলীর স্বজন ও তাঁর পক্ষের লোকজনের দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের একাংশের মধ্যে প্রতিবাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সাংবাদিক মানসুরার নেতৃত্বে শিবলীর মুক্তি ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা অন্য কোনো চাপ যেন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে না পারে।
‘নেতার ফোনে থানা চলবে না’—অভিযোগের তদন্ত চান সাংবাদিক মানসুরা
শিবলীকে মাদক মামলায় জড়ানোর ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক মানসুরা। তাঁর অভিযোগ, কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির ফোন বা সুপারিশের ভিত্তিতে পুলিশ যেন কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়।
সাংবাদিক মানসুরা বলেন, “মিথ্যা দিয়ে কখনো সত্যকে ঢাকা যায় না। ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষ কিংবা সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করা যাবে না। সব সাংবাদিক ভয় পায় না, যেমন আমি নিজে ভয় পাই না। ভয়কে জয় করেই আমরা শিবলীর পক্ষে অন্যায়ের শেষ দেখে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।”
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে প্রথমে সেটির সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও প্রমাণ ছাড়া কোনো অভিযোগ প্রকাশ করা হয় না—এমন উদাহরণ টেনে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকেও একই ধরনের দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশা করেন।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, তবে চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণ করবে তদন্ত
সাংবাদিক মানসুরার অভিযোগ, কালীগঞ্জ থানার কিছু সদস্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর দাবি, কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির ফোনকল বা প্রভাবের কারণে যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “থানা চলবে আপনাদের নিজস্ব আইনি গতিতে, কোনো নেতার ফোন কলের গতিতে বা ইশারায় নয়। আগে জানুন, বুঝুন, নিরপেক্ষ তদন্ত করুন, তারপর আইনি পদক্ষেপ নিন।”
তবে রাজনৈতিক কোনো নেতার ফোনের কারণে পুলিশ শিবলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে—এমন অভিযোগের পক্ষে কোনো কল রেকর্ড, লিখিত নির্দেশনা বা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য নথি এই প্রতিবেদনের কাছে উপস্থাপিত হয়নি। ফলে বিষয়টি বর্তমানে অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে।
পূর্বশত্রুতার অভিযোগ
শিবলীর স্বজনদের দাবি, তাঁর সঙ্গে স্থানীয় কারও পূর্ববিরোধ ছিল এবং সেই বিরোধের জেরেই তাঁকে মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে।
তাঁদের আরও দাবি, শিবলীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে তাঁর প্রকৃত জীবনযাপন ও সামাজিক অবস্থানের সামঞ্জস্য নেই। স্বজনদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, শিবলী মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত নন।
তবে এসব বক্তব্যও সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি। মামলার এজাহার, জব্দ তালিকা, তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের নথি এবং অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ না করে অভিযোগটি সত্য বা মিথ্যা—কোনোটিই চূড়ান্তভাবে বলা সম্ভব নয়।
মামলার নথিই বলবে প্রকৃত ঘটনা
শিবলীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার প্রকৃত চিত্র জানতে হলে মামলার এজাহার, জব্দ তালিকা, গ্রেপ্তারের কারণ, উদ্ধার করা আলামত, সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা জরুরি।
বিশেষ করে মাদক মামলার ক্ষেত্রে উদ্ধার করা আলামতের প্রকৃতি, পরিমাণ, জব্দ প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। এসব নথি ও তথ্য প্রকাশ্যে এলে মামলাটির বাস্তব ভিত্তি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
পরিবারের উদ্বেগ
শিবলীর পরিবারের সদস্যরা তাঁর মুক্তি ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, একটি মামলা একজন তরুণের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শিবলী যদি অপরাধ করে থাকেন তাহলে আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার হোক। কিন্তু তিনি যদি নির্দোষ হন, তাহলে যেন কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা প্রভাবের কারণে তাঁকে হয়রানির শিকার হতে না হয়।
সাংবাদিকদের আন্দোলনের ডাক
শিবলীর বিষয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও তাঁর মুক্তির দাবিতে সাংবাদিক মানসুরার নেতৃত্বে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে কালীগঞ্জের গণমাধ্যমকর্মী, ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষকে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে কর্মসূচির চূড়ান্ত সময় ও স্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তা অনুমান করে প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ
ঘটনাটি নিয়ে কালীগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ কী ভিত্তিতে মামলা করেছে, কী কী আলামত উদ্ধার করা হয়েছে, গ্রেপ্তারের আইনি ভিত্তি কী এবং তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর জানা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে ‘রাজনৈতিক প্রভাব’ কিংবা ‘ফোনকলের মাধ্যমে পুলিশকে প্রভাবিত করার’ অভিযোগ থাকলে প্রশাসনের উচিত বিষয়টি পরিষ্কার করা।
কারণ একজন নাগরিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা যেমন গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন, তেমনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তই পথ
শিবলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। আবার অভিযোগটি ভিত্তিহীন হলে একজন নাগরিককে হয়রানি থেকে রক্ষা করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তাই এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণ যাচাই এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা।
সাংবাদিক মানসুরার নেতৃত্বে ঘোষিত মানববন্ধন সেই প্রশ্নগুলোই সামনে আনছে—কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে কি যথাযথ যাচাই হয়েছে? রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের কোনো ভূমিকা ছিল কি? আর মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে প্রকৃত প্রমাণ কী?
এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথি থেকেই বেরিয়ে আসবে।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। পুলিশের বক্তব্য, মামলার বাদীপক্ষের বক্তব্য, শিবলীর পরিবারের বক্তব্য এবং আদালতের নথি পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
#কালীগঞ্জ #ঝিনাইদহ #শিবলী #মাদকমামলা #সাংবাদিকমানসুরা #মানববন্ধন #নিরপেক্ষতদন্ত #দৈনিকবাংলাদেশপ্রথমসংবাদ