তারিখ: ৪ আগস্ট ২০২৫
নাশকতার প্রশিক্ষণদাতা মেজর সাদেকের স্ত্রীও হাসিনার ঘনিষ্ঠ: স্বামী-স্ত্রী মিলে গড়ে তুলছিলেন আওয়ামী ক্যাডার বাহিনী
সংবাদদাতা: বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
স্লোগান: জনতার কণ্ঠস্বর
আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সংগঠিত করে রাষ্ট্রবিরোধী পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজর সাদেকুল হক সাদেক ও তার স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিন এখন পুলিশের সরাসরি নজরদারিতে। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা শুধু প্রশিক্ষণদাতা ছিলেন না—তারা শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ মহলের সদস্য হিসেবেই কাজ করছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের গোপনে প্রস্তুত করছিলেন।
হাসিনাপন্থী পরিবারে বিয়ে ও রাজনৈতিক সখ্যতা:
মেজর সাদেক বিয়ে করেন একটি কট্টর আওয়ামী পরিবারের মেয়ে সুমাইয়াকে, যার পরিবার সরাসরি শেখ হাসিনার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিল। সুমাইয়া নিজেও আওয়ামী ঘরানার একাধিক সামাজিক ও নারীনেত্রীমুখী প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় ছিলেন। জানা গেছে, হাসিনা সরকারের ছত্রছায়ায় তারা প্রায় পাঁচ মাস ধরে “KB কনভেনশন সেন্টার”, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পাশে একটি গোপন ঘাঁটি তৈরি করে সেখানে ক্যাডার প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন।
গোপন যোগাযোগ ও ‘সিগন্যাল’ গ্রুপ:
তদন্তে দেখা গেছে, ‘Signal’ নামের একটি এনক্রিপটেড অ্যাপে গোপন একটি গ্রুপ খুলে তারা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।
এই প্ল্যাটফর্মে তারা অস্ত্রচালনা, অনলাইন যুদ্ধ, সাইবার হামলা এবং হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড কমব্যাট শিখিয়ে আসছিলেন। গ্রুপটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক বেশ কয়েকজন নেতা ছিলেন এবং মূলত তাদের মাধ্যমেই যুব কর্মীদের ‘নাশকতা-কেন্দ্রিক’ প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।
পুলিশি অভিযান ও গ্রেপ্তার:
গত কয়েকদিনে ডিবি ও পুলিশের অভিযানে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মাদারীপুর থেকে অন্তত ৩০ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকে মেজর সাদেক এবং তার স্ত্রী কর্তৃক মনোনীত প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে কাজ করছিলেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
হেফাজতের আবেদন ও সেনা-পুলিশ টানাপোড়েন:
ভাটারা থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তের স্বার্থে মেজর সাদেক ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছে পুলিশ। মেজর সাদেক বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে তাকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠালেও ৪ আগস্ট সকাল পর্যন্ত সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো উত্তর আসেনি।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সুমাইয়াকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা নেটওয়ার্ক:
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাদেক দম্পতির কর্মকাণ্ড নিয়ে আগে থেকেই সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা রিপোর্ট ছিল। কিন্তু উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে তারা এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। এই ধরনের নাশকতা-প্রশিক্ষণ চালানোর দায়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হতে পারে।
এই ঘটনা আবারও স্পষ্ট করে দেয়—আওয়ামী লীগ সরকারের ভেতরেই একাধিক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কাজ করছে যারা ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে দুর্বল করে তুলছে।
এই মুহূর্তে প্রয়োজন, দ্রুত বিচার এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে মেজর সাদেক ও তার স্ত্রীসহ পুরো চক্রকে বিচারের মুখোমুখি আনা। নতুবা দেশে ভবিষ্যৎ সহিংসতা ও বিভাজনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।