নাটকের নতুন পর্ব: সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিনে প্রপাগান্ডার মহোৎসব
ঢাকা | ২৭ জুলাই ২০২৫
প্রতিবেদন: ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
বাংলাদেশে যখন জনগণের ভাত-কাপড়ের সংকট, দুর্নীতি ও গুম-খুনে রাষ্ট্র দিশেহারা, তখন এক নাটকীয় ‘শ্রদ্ধা, প্রেরণা ও প্রত্যাশা’র আবহে পালন করা হলো সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন। এক সময় যিনি নিজেকে ‘প্রযুক্তির আগামীর স্থপতি’ বলে পরিচয় দিয়েছিলেন, আজ তাঁর নামই উচ্চারিত হয় ‘ভুয়া গল্প, ব্যর্থ প্রজেক্ট আর অগণতান্ত্রিক ষড়যন্ত্রের’ প্রতীকে।
নাটকীয় সূচনা: এক অন্ধকারে জন্ম নাকি কুসংস্কারের সূচনা?
১৯৭১ সালে যখন বাংলাদেশে এক সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ চলছিল, ঠিক তখনই ভারতের গন্তক শহরে জন্মগ্রহণ করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তাঁকে “আলোকবর্তিকা” হিসেবে আখ্যা দেওয়া হলেও বাস্তবে স্বাধীনতা অর্জনের ঐতিহাসিক মুহূর্তে তাঁরা বিদেশেই ছিলেন — দেশপ্রেমের ইতিহাসে এই ‘অবস্থান’ বরং প্রশ্নবিদ্ধ।
‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ না ‘ডিজিটাল ধোঁকাবাজি’?
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর “ডিজিটাল বাংলাদেশ” স্লোগান নিয়ে শুরু হয় যে স্বপ্ন বিক্রির প্রচার, তার মূল ‘পরিচালক’ ছিলেন জয়। কিন্তু এই প্রকল্প বাস্তবে পরিণত হয়—
কোটি কোটি টাকার ব্যর্থ প্রকল্পে
ব্যয়বহুল অথচ অপদার্থ ওয়েবসাইট
প্রহসনমূলক ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং’
ফেসবুক পোস্টেই আটকে থাকা স্টার্টআপ বাংলাদেশ
সরকারি অর্থে প্রজেক্ট চালানো, অথচ বাস্তবায়নে দুর্নীতি আর আত্মীয়প্রীতির নিদর্শন, এসবই ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’র মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে।
নীরব বিপ্লবী না অঘোষিত শাসক?
জয় রাজনীতিতে সরাসরি না থাকলেও, আইসিটি উপদেষ্টা হিসেবে ২০০৮ সাল থেকে সরকার ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে তাঁর প্রভাব ছিল প্রচণ্ড। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—
গোপন সার্ভেইলেন্স প্রযুক্তি আমদানি করে বিরোধী মত দমন
সরকারবিরোধীদের ফেসবুক আইডি নজরদারি
ব্যক্তিগত মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ
তাঁর প্রযুক্তি নয়, বরং ডিজিটাল ফ্যাসিজমই এখন বাংলাদেশের তরুণদের বাস্তবতা।
আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নয়, আন্তর্জাতিক সমালোচনার বিষয়
সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম এখন আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও এক প্রশ্নবিদ্ধ চরিত্র।
উদাহরণস্বরূপ:
২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত একটি থিঙ্কট্যাংক রিপোর্টে তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য নিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিগত আখের গোছানোর অভিযোগ ওঠে
ভারতের কিছু সংবাদমাধ্যম তাঁকে “আঞ্চলিক রাজনীতির বিতর্কিত চরিত্র” বলেও অভিহিত করে
একজন ‘তথ্যপ্রযুক্তিবিদ’ অথচ তথ্যবিহীন ভবিষ্যৎ
একজন প্রকৃত প্রযুক্তিবিদ তথ্য, উদ্ভাবন এবং জনমানুষের উপকারে কাজ করেন। কিন্তু জয়-এর আইসিটি পরামর্শ ও প্রকল্পগুলো বরং দেশে তথ্যবিহীন সিদ্ধান্ত, জনগণবিমুখ কর্মসূচি এবং তরুণদের মেধা পাচারের মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
বিকল্প কণ্ঠ: জনগণের হৃদয় থেকে প্রশ্ন
সাধারণ মানুষ আজ প্রশ্ন তোলে—
> “স্মার্ট বাংলাদেশ কই? নেট নাই, চাকরি নাই, মূল্যবৃদ্ধি কমে না। এই জয় কিসের প্রতীক?”
> “তাঁর জন্মদিনে কেক কাটা চলতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা হলো—আমরা গিলে খাচ্ছি তাঁদের নাটকের বিষ।”
---
এই দেশের প্রকৃত ‘আলোকবর্তিকা’ ছিল সেইসব তরুণেরা, যারা ডিজিটাল স্বাধীনতার নামে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়, গুম হয় বা সামাজিক মাধ্যমে ব্লক হয়। প্রযুক্তির আড়ালে এই একনায়কতান্ত্রিক বিপণন আর কতকাল চলবে?
জন্মদিন পালন হোক ব্যক্তিগত বিষয়, কিন্তু রাষ্ট্র চালানো হোক জনমানুষের কল্যাণে—not in the name of a dynasty.
প্রশ্ন থাকছে: "ডিজিটাল বাংলাদেশ" নাকি "ডিজিটাল দুর্নীতি"?
---
ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদে থাকুন, কারণ আমরা বলি না সাজানো কথা — তুলে ধরি বাস্তবের নির্মম সত্য।