নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
ঢাকা: সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হককে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন নতুন করে পুনর্মূল্যায়নের দাবি উঠেছে। অধ্যাপক মোজাম্মেল হকের বক্তব্য এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বেশ কয়েকটি অভিযোগের সমর্থনে তদন্ত কমিটি প্রয়োজনীয় প্রমাণ পায়নি। কিছু অভিযোগকে কমিটি সঠিক নয় বলেও মত দিয়েছে।
অধ্যাপক মোজাম্মেল হকের দাবি, ২০২৩ সালে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তের পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রস্তুত করা প্রতিবেদনের একটি কপি তিনি দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদকে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ওই প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা ও তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। ফলে পুরোনো অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর সম্পর্কে একপাক্ষিক ধারণা তৈরি না করে তদন্তের ফলাফল, নথিপত্র এবং তাঁর বক্তব্য একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তবে প্রতিবেদনের সব পৃষ্ঠা, সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক আদেশ এবং পরবর্তী সময়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা ছাড়া সব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কিংবা নিষ্পত্তিকৃত বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
অভিযোগের সূত্রপাত যেভাবে
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিচালনা, প্রশাসনিক কার্যক্রম, নিয়োগ, বেতন-ভাতা, সনদ প্রদান এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সঙ্গে উপাচার্যের সম্পর্ক নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান ২০২৩ সালের ১৮ জুন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে চ্যান্সেলরের কাছে অভিযোগ উত্থাপন করেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনের সারাংশে উল্লেখ রয়েছে। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৯ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে বিষয়টি ইউজিসির কাছে পাঠায়।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার ২৫ জুন ২০২৩ তারিখে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যসচিব সরওয়ার জাহান এবং বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে দুদকে আবেদন করেন বলে প্রতিবেদনের সারাংশে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকও ১১ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ইউজিসির চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে। ইউজিসি ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর ও ২৬ নভেম্বর কমিটি পুনর্গঠনের কথা প্রতিবেদনের সারাংশে উল্লেখ রয়েছে।
তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা, বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করে। প্রাপ্ত সারাংশ অনুযায়ী, কমিটি মোট ১০টি সভায় অভিযোগপত্র, লিখিত জবাব ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে। পুনর্গঠিত কমিটি ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে।
উপাচার্য নিয়োগে যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগ, সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি
অধ্যাপক মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগগুলোর একটি ছিল, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনের সারাংশ অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর উপাচার্য নিয়োগের জন্য প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের মধ্যে মোজাম্মেল হকের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর পরিবর্তে বিকল্প প্রস্তাবসহ নতুন তিনজনের প্যানেল পাঠানোর জন্য বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যানকে চিঠি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়।
তবে তদন্ত কমিটির পর্যালোচনায় উঠে আসে, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ তাঁকে যোগ্য ও উপযুক্ত বিবেচনা করে উপাচার্য পদের জন্য তিনজনের প্যানেলে প্রথম স্থানে তাঁর নাম প্রস্তাব করেছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি নিয়োগ পান এবং ২০২১ সালের ১ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রতিবেদনের সারাংশে আরও উল্লেখ রয়েছে, তিনি এর আগে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন এবং সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে ২০০১ সাল থেকে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছিলেন।
এসব নথি পর্যালোচনা করে তদন্ত কমিটি উপাচার্য পদে নিয়োগের যোগ্যতা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পায়নি বলে প্রতিবেদনের সারাংশে উল্লেখ রয়েছে।
এই পর্যবেক্ষণ অধ্যাপক মোজাম্মেল হকের পেশাগত যোগ্যতা ও নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে তাঁর নিয়োগসংক্রান্ত সব প্রশাসনিক প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের সংশ্লিষ্ট অংশ ও পরবর্তী দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত যাচাই করা প্রয়োজন।
শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট ও শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার অভিযোগও সমর্থিত হয়নি
অধ্যাপক মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার, অশোভন আচরণ, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের চাকরি ছেড়ে যেতে বাধ্য করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগও তোলা হয়েছিল। অভিযোগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ হাজার ৮০০ থেকে কমে ১ হাজার ৮০০-তে নেমে আসার কথাও বলা হয়েছিল।
অধ্যাপক মোজাম্মেল হক তাঁর জবাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আনতে বিভিন্ন বিধিবিধান প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি আরও দাবি করেন, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের চাকরি পরিবর্তন বা ছেড়ে যাওয়ার পেছনে ব্যক্তিগত কারণ, উচ্চতর পদ কিংবা বেশি বেতনের সুযোগের মতো বিষয় থাকতে পারে।
শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রসঙ্গে তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ডে শিক্ষার্থী ছিল ২ হাজার ৪৫২ জন এবং তাঁর বক্তব্য দেওয়ার সময় সংখ্যাটি ছিল ২ হাজার ১৭৫ জন। অর্থাৎ তাঁর উপস্থাপিত তথ্য অভিযোগে উল্লেখিত সংখ্যার সঙ্গে মেলে না।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ ছিল আরও তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিবেদনের সারাংশ অনুযায়ী, অভিযোগকারী অভিযোগের সমর্থনে প্রয়োজনীয় প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি। উপাচার্যের লিখিত জবাব ও দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনা করেও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ফলে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট ও শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার অভিযোগকে কমিটি সঠিক বলে বিবেচনা করেনি।
এ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে অধ্যাপক মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগগুলোকে তদন্তে প্রমাণিত অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা যথার্থ হবে না। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীসংক্রান্ত পরিসংখ্যানের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সময়ের ভর্তি রেজিস্টার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি হিসাব যাচাই করা যেতে পারে।
সনদ নিয়ে অভিযোগ: যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ
দ্বিতীয় সমাবর্তনের পর শিক্ষার্থীদের মূল সনদ না পাওয়া এবং সাময়িক সনদ সংগ্রহে হয়রানির অভিযোগও অধ্যাপক মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছিল।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় দ্বিতীয় সমাবর্তনের আয়োজন করা হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের সাময়িক সনদ যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত সনদধারীদের মূল সনদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রাপ্ত সারাংশে তাঁর বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ রয়েছে, পূর্বে ইস্যু করা ৪১০টি সনদের মধ্যে ১০৫টি জাল হিসেবে শনাক্ত হয়েছিল। যেসব সনদে ফলাফলসংক্রান্ত অসংগতি বা জালিয়াতির অভিযোগ ছিল, সেগুলো যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের মূল সনদ দেওয়া হয়নি।
তদন্ত কমিটির পর্যালোচনায় সাময়িক সনদ পেতে শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগের সমর্থনে প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে সারাংশে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও সামনে আসে।
এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি। একদিকে, সনদ পেতে হয়রানির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়নি বলে উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, ১০৫টি সনদ জাল শনাক্ত হওয়ার তথ্যটি অধ্যাপকের বক্তব্য ও প্রতিবেদনের সারাংশে এসেছে; এ বিষয়ে মূল তদন্ত প্রতিবেদন এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ যাচাই ছাড়া জাল সনদের দায় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর চাপানো যায় না।
ই-মেইল, ওয়েবসাইট ও অনলাইন যাচাই নিয়ে অভিযোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ের ই-মেইল ও অনলাইন ব্যবস্থা সচল না থাকা এবং ডোমেইন পরিবর্তনের কারণে শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়ার অভিযোগও তদন্তে আলোচনায় আসে।
অধ্যাপক মোজাম্মেল হকের বক্তব্য অনুযায়ী, সনদ যাচাইয়ের অনলাইন ব্যবস্থায় জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় এবং এ-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ায় অনলাইন যাচাই সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ইউজিসির সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডোমেইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাঁর দাবি ছিল, ডোমেইনসংক্রান্ত অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে সঠিকভাবে উত্থাপিত হয়নি।
তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ হিসেবে প্রতিবেদনের সারাংশে বলা হয়েছে, আগের ডোমেইন ব্যবহার করে জাল সনদ যাচাইয়ের সুযোগ থাকার বিষয়টি বিবেচনায় ডোমেইন পরিবর্তন করা হয়েছিল। এ কারণে এ-সংক্রান্ত অভিযোগকে কমিটি যৌক্তিক বলে মনে করেনি।
তবে অনলাইন সেবা বন্ধ থাকা অবস্থায় শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও নিয়োগদাতারা কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত নথি, সেবা বন্ধের সময়কাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
রেজিস্ট্রার নিয়োগ নিয়ে তদন্তে ব্যত্যয়ের কথা এসেছে
তদন্ত প্রতিবেদনের সারাংশে অধ্যাপক মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্রার নিয়োগের ক্ষেত্রে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের অনুমোদন না নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
অধ্যাপকের বক্তব্য অনুযায়ী, রেজিস্ট্রারের শূন্যপদ পূরণে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল এবং তিনজন যোগ্য প্রার্থীর আবেদন পাওয়া যায়। নিয়োগ কমিটি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আবুল কাসেম পিএসসিকে নিয়োগের সুপারিশ করলেও তিনি যোগদান করেননি। পরে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞ একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ছয় মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।
তবে তদন্ত কমিটির পর্যালোচনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী নিয়োগে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, নিয়োগের ক্ষেত্রে সেই অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
অতএব, এই বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। বরং নিয়োগের প্রেক্ষাপট, প্রক্রিয়া ও অনুমোদনসংক্রান্ত ব্যত্যয় আলাদা করে তুলে ধরাই নথিনির্ভর সাংবাদিকতার দাবি।
বেতন-ভাতা নির্ধারণ নিয়ে কী বলেছে তদন্ত কমিটি
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ এবং বৃদ্ধির বিষয়টিও তদন্ত প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে।
অধ্যাপক মোজাম্মেল হকের বক্তব্য অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় বেতন-ভাতা নির্ধারণের জন্য সার্ভিস রুল ও বেতন স্কেল প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হয়েছিল বলে তিনি জানান।
তবে তদন্ত কমিটির পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে, সিন্ডিকেটের অনুমোদন নেওয়া হলেও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনের সারাংশে এ বিষয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ১৬(৫) ধারার ব্যত্যয়ের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি পূর্বনির্ধারিত বেতন ও বাস্তবে নেওয়া অর্থের পার্থক্য সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করার সুপারিশও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পর্যবেক্ষণ থেকে বোঝা যায়, বেতন-ভাতা নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনিক প্রশ্ন ছিল। তবে শুধু অনুমোদনসংক্রান্ত ব্যত্যয়ের উল্লেখ থেকে ব্যক্তিগত দুর্নীতি বা অর্থ আত্মসাতের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এ ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য আর্থিক নথি, অনুমোদনের রেকর্ড, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় এবং পরবর্তী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত যাচাই করা আবশ্যক।
বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও উপাচার্যের বিরোধও তদন্তের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ
সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও তদন্তের প্রেক্ষাপটে এসেছে। প্রতিবেদনের সারাংশে উল্লেখ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে চট্টগ্রামের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ৪০২/২০১৬ নম্বর দেওয়ানি মামলা দায়ের হয়েছিল এবং তদন্ত প্রতিবেদনে মামলাটিকে বিচারাধীন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধ্যাপক মোজাম্মেল হকের বক্তব্যে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সঙ্গে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সভার আলোচ্যসূচি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে মতবিরোধের কথাও উঠে এসেছে। অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে বোর্ডের কার্যক্রমে অসহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপন না করার অভিযোগ ছিল।
তদন্ত কমিটি বোর্ডের সভার আলোচ্যসূচি ও কার্যবিবরণী লেখা এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পায়নি বলে প্রতিবেদনের সারাংশে উল্লেখ রয়েছে। তবে বোর্ডের অনুমোদনসংক্রান্ত কিছু প্রশাসনিক ব্যত্যয়ের বিষয় আলাদাভাবে উঠে এসেছে।
অর্থাৎ, সব অভিযোগ একই ধরনের ছিল না এবং তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণও সব ক্ষেত্রে এক ছিল না। কোথাও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি, কোথাও প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া যায়নি, আবার কিছু বিষয়ে অনুমোদনসংক্রান্ত ব্যত্যয়ের কথা বলা হয়েছে।
২০২৬ সালে পুরোনো প্রতিবেদন পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন কেন
একটি সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব কেবল অভিযোগ প্রকাশ করা নয়; অভিযোগের জবাব, তদন্তের ফলাফল এবং পরবর্তী সময়ে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ নথিও পাঠকের সামনে তুলে ধরা।
২০২৩ সালে কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়ে থাকলে এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়ে থাকলে, ২০২৬ সালে সেই অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ বা পুনঃপ্রকাশের আগে তদন্তের ফলাফল বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি, সেগুলোকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে উপস্থাপন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে তিনি যোগাযোগের চেষ্টা সত্ত্বেও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে কথা বলতে পারেননি। পরে তিনি নিজের বক্তব্য, তদন্ত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য পাঠিয়ে বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নের অনুরোধ জানিয়েছেন।
তাঁর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ মনে করে, অভিযোগ ও জবাব উভয়ই গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আগের প্রতিবেদনে তদন্তের ফলাফল বা তাঁর বক্তব্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত না হয়ে থাকলে, সংশোধনী বা হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করা সাংবাদিকতার দায়িত্বের অংশ।
তবে এ প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে ইউজিসির পূর্ণাঙ্গ মূল প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট চিঠিপত্র এবং পরবর্তী সময়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা সরাসরি যাচাই করা জরুরি। শুধু একটি পক্ষের বক্তব্য বা প্রতিবেদনের আংশিক সারাংশের ভিত্তিতে সব অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে বলে ঘোষণা করা সমীচীন নয়।
অভিযোগ নয়, নথি ও তদন্তের ফলাফলই হোক মূল্যায়নের ভিত্তি
অধ্যাপক প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হককে ঘিরে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়টি নতুন করে মূল্যায়নের দাবি রাখে। প্রাপ্ত তদন্ত প্রতিবেদনের সারাংশ অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে উপাচার্য নিয়োগের যোগ্যতা, শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা, শিক্ষার্থী কমে যাওয়া, সনদসংক্রান্ত হয়রানি, ডোমেইন পরিবর্তন এবং বোর্ডের সভার কার্যবিবরণী নিয়ে উত্থাপিত কয়েকটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বা সেগুলোর পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ মেলেনি।
অন্যদিকে, রেজিস্ট্রার নিয়োগ এবং বেতন-ভাতা নির্ধারণে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের অনুমোদনসংক্রান্ত ব্যত্যয়ের বিষয়ও প্রতিবেদনে এসেছে। ফলে পুরো ঘটনাকে এককভাবে ‘সব অভিযোগ ভিত্তিহীন’ বলে চিহ্নিত না করে, প্রতিটি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটির পৃথক সিদ্ধান্ত তুলে ধরাই অধিক দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা।
একজন শিক্ষকের পেশাগত মর্যাদা ও সুনাম রক্ষার পাশাপাশি অভিযোগের যথাযথ তদন্ত এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অধ্যাপক মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তদন্তে সমর্থিত হয়নি, সেগুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে যেসব বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যত্যয়ের কথা এসেছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী নিষ্পত্তিও পাঠকের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সাবেক উপাচার্য, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সফল উপাচার্যের দায়িত্ব পালন শেষে তিনি সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেন এবং প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক মানোন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, একটি কুচক্রী মহল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নানা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগ উত্থাপন করেছিল।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুরোধে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত পরিচালনা করে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ইউজিসির সেই আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদনে ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। প্রতিবেদনে পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে:নিয়োগের বৈধতা: উপাচার্য পদে তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বিধি মোতাবেক ছিল; যোগ্যতার অভাবসংক্রান্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
: শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট বা শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ অভিযোগকারীরা দাখিল করতে পারেননি, জাল সনদ শনাক্তকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা রক্ষার স্বার্থেই ডোমেইন পরিবর্তন করা হয়েছিল; এ নিয়ে করা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক ছিল।
আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করা গুরুতর অপরাধ।মানহানি ও মিথ্যা অভিযোগ: দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদুদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য দিয়ে হয়রানি করা এবং মানহানি ঘটানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতে মানহানি মামলা এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের পূর্ণ আইনগত সুযোগ রয়েছে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠাতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং ইউজিসির মতো সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত কুচক্রীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি।
অধ্যাপক প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক শুধু একজন দক্ষ প্রকৌশলী ও উপাচার্যই নন, তিনি দেশের উচ্চশিক্ষা খাতকে এগিয়ে নিতে জীবন উৎসর্গ করা একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্ব। সংকটের মুহূর্তেও তিনি প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন। পুরোনো ও মীমাংসিত বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়ে তাঁর পেশাগত সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার যেকোনো অপচেষ্টা ন্যক্কারজনক।
সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী—ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। দেশপ্রেমিক এই শিক্ষাবিদের বিরুদ্ধে চলা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের অবসান ঘটিয়ে তাঁর অবদানকে যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং কুচক্রীদের আইনি কাঠামোর আওਤੇ এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা এখন সময়ের জোরালো দাবি।
সম্পাদনা ও প্রকাশনা বিভাগ | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ মনে করে, ব্যক্তিগত বিরোধ বা একপক্ষের অভিযোগ নয়—যাচাইযোগ্য নথি, নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য এবং পরবর্তী দাপ্তরিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এই বিতর্কের মূল্যায়ন হওয়া উচিত।
সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: এই প্রতিবেদনটি অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হকের বক্তব্য ও সরবরাহ করা তদন্ত প্রতিবেদনের সারাংশের ভিত্তিতে প্রস্তুত একটি পুনর্মূল্যায়নমূলক খসড়া। প্রকাশের আগে ইউজিসির মূল প্রতিবেদনের সব পৃষ্ঠা, তারিখ, অভিযোগ নম্বর, সুপারিশ এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত যাচাই করা । সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।