এ.কে. পলাশ, কুমিল্লা প্রতিনিধি | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, অভিযানে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় ‘CORAZU’ ট্যাবলেট এবং ১২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া পৃথক অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের এক সদস্য, নিয়মিত মামলার এক আসামি এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আরও ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে এসব গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধারের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলামের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় থানা পুলিশের বিভিন্ন দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
১২০ কেজি গাঁজাসহ দুইজন গ্রেপ্তার
পুলিশ জানায়, মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ নীলফামারীর তরিকুল ইসলাম রাজন (৩১) এবং সিলেটের ফরহাদ আহম্মদ ওরফে ফরহাদ মিয়া (৩০) নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস, পরিবহন ও সরবরাহের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
১ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার
অন্য একটি অভিযানে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় ‘CORAZU’ ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় সঞ্জিত দেব (৪৫), বাবুল দেবনাথ (৪৭) এবং বরিশালের সুমন (৩৮) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিপুল পরিমাণ ট্যাবলেট উদ্ধারের ঘটনায় চালানটির উৎস এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিভিন্ন মামলায় আরও সাতজন গ্রেপ্তার

মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ পৃথক অভিযানে বিভিন্ন মামলার আসামিদেরও গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য হিসেবে দাউদকান্দির মো. ইব্রাহিম (২২) এবং নিয়মিত মাদক মামলার আসামি বুড়িচংয়ের সুমন মিয়া (৪৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পৃথক অভিযানগুলোতে মাদক মামলার আসামি, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত
দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ও বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক পরিবহন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ট্যাবলেট উদ্ধারের ঘটনায় এর উৎস, পরিবহন ব্যবস্থা এবং সরবরাহ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
পৃথক মামলা, আদালতে সোপর্দ
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া মাদকের প্রকৃত উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নেপথ্যের মাদকচক্র শনাক্তের দাবি
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় শুধু বহনকারী বা সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করলেই মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এর পেছনে থাকা সরবরাহকারী, অর্থের উৎস এবং মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
তাদের মতে, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করা দরকার।
দাউদকান্দিতে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ট্যাবলেট ও গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় মাদকবিরোধী অভিযানের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে। এখন পুলিশের তদন্তে এসব মাদকের উৎস এবং সরবরাহ ব্যবস্থার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে কী তথ্য বেরিয়ে আসে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ.কে. পলাশ
কুমিল্লা প্রতিনিধি
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ