তাহসান–রোজা বিচ্ছেদ: দায় কি শুধুই নারীর? প্রশ্ন তুলছে সামাজিক বিবেক
স্টাফ রিপোর্টার:
সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান এবং তার স্ত্রী রোজা আহমেদের সংসার ভাঙনের খবরে আবারও উত্তাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। তবে এই ভাঙনের দায় কার—সে প্রশ্নে অধিকাংশ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন একজন নারীই। নেটিজেনদের একাংশ রোজার পোশাক, জীবনযাপন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার উপস্থিতিকেই বিচ্ছেদের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
উল্লেখ্য, রোজার সঙ্গে তাহসানের বিয়ের সময় সামাজিক মাধ্যমে ভিন্ন এক চিত্র দেখা গিয়েছিল। সে সময় নেটিজেনদের একটি বড় অংশ রোজাকে ‘বিজয়ী’ হিসেবে দেখেছিলেন এবং তাহসানের প্রথম স্ত্রী মিথিলার সঙ্গে তুলনা টেনে রোজার ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। অনেকের কাছে সেটাই ছিল এক ধরনের ‘মানসিক শান্তি’—তাহসান যেন মিথিলাকে ‘হারিয়ে’ দিয়েছেন।
তবে বিয়ের শুরুতেই সচেতন মহলের কেউ কেউ এই সম্পর্ককে ‘মিস ম্যাচ’ বলেও অভিহিত করেছিলেন। তাদের যুক্তি ছিল—দুজনের বয়সের পার্থক্য এবং পারিবারিক ও সামাজিক ব্যাকগ্রাউন্ডের ভিন্নতা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার কারণ হতে পারে।
আজ বিচ্ছেদের খবরে সেই আশঙ্কাই যেন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—সংসার ভাঙলেই কেন দায়ভার একতরফাভাবে নারীর কাঁধে চাপানো হয়? মিথিলা হোক বা রোজা—তারা কি কেবল নারী বলেই সম্পর্ক ভাঙনের দায় বহন করবেন?
বিশ্লেষকরা বলছেন, তাহসান একজন পরিণত, শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ মানুষ। দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার ম্যাচিউরিটি ও দূরদর্শিতার প্রশ্ন উঠতেই পারে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ হিসেবে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ, পারিবারিক সামঞ্জস্য এবং দায়িত্বশীলতার বিষয়গুলো ভেবে দেখার দায় তারও কম নয়।
অন্যদিকে, রোজার বয়স ও মানসিক অবস্থান বিবেচনায় অনেকেই মনে করেন, তার প্রতিটি সিদ্ধান্তকে কঠোর বিচারে কাঠগড়ায় তোলা অমানবিক। জনপ্রিয় ও সুদর্শন একজন তারকার স্ত্রী হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগও নেই।
সচেতন মহলের মতে, একটি সম্পর্ক তৈরি ও ভাঙার দায় কখনোই একতরফা হতে পারে না। এই সম্পর্কে যতটা দায় রোজার, তার চেয়ে কম নয় তাহসানেরও। তবে পুরুষ হওয়ার কারণে তিনি হয়তো পরপর দুবার সামাজিক ছাড় পেয়ে যাবেন—এটাই আমাদের সমাজের চিরচেনা বাস্তবতা।
তবুও সত্য এটাই—একটি সম্পর্ক শুধুমাত্র একজনের দোষে নষ্ট হয় না। সেখানে দায়, ভুল ও সীমাবদ্ধতা দুজনেরই থাকে। এই বাস্তবতা স্বীকার না করলে নারীকেন্দ্রিক দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়।