তারিখ: ১১ অক্টোবর ২০২৫, শনিবার
প্রতিবেদক: জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
প্রকাশনা: দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
স্লোগান: জনতার কণ্ঠস্বর
ওয়েবসাইট: www.bangladeshprothomsangbad.com
ড. ইউনুসকে কটাক্ষ সত্ত্বেও পদোন্নতি: বিতর্কে বাংলাদেশ বেতারের তাজুল ইসলাম সোহাগ
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে যখন ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নৈতিক পুনর্গঠনের পথ দেখাচ্ছে, তখন ঠিক উল্টোচিত্র দেখা যাচ্ছে জাতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ বেতারে।

ফ্যাসিবাদপন্থী রাজনীতির সক্রিয় কর্মী ও আওয়ামী লীগ–ঘেঁষা সংগঠনের পরিচিত মুখ তাজুল ইসলাম সোহাগ, যিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস–কে প্রকাশ্যে কটাক্ষ করেছিলেন, সেই ব্যক্তি আজও বাংলাদেশ বেতার ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রমে নিয়মিত অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন।

২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক ওয়ালে তাজুল লিখেছিলেন:
> “গাধা চেয়ার পেয়ে গেলে সে নিজেও সমস্যায় পড়ে, অন্যদেরও সমস্যায় ফেলে।”
এই মন্তব্য সরাসরি ড. ইউনুসকে উদ্দেশ্য করে করা হয়েছিল, যা তৎকালীন সময়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়—এই কটাক্ষ সত্ত্বেও বেতার কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ তো নেয়ইনি, বরং সম্প্রতি তাকে আরও দায়িত্বপূর্ণ উপস্থাপনা পালায় যুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) এ এস এম জাহিদ এবং ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রমের পরিচালক সায়েদ মোস্তফা কামাল—দুজনেই আওয়ামী ঘরানার রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। সূত্রমতে, সায়েদ মোস্তফা কামালের নিজ জেলা পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া বাজারে তার বাড়ি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সময়ে আওয়ামী রাজনীতির সক্রিয়তায় তার পরিবারের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়, এমনকি স্থানীয়রা তাদের বাড়িতে আগুনও ধরিয়ে দেয়।
তবু এই একই সায়েদ মোস্তফা কামাল বর্তমানে আওয়ামীপন্থী উপস্থাপক ও শিল্পীদের ‘গোপন পুনর্বাসন তদারকির দায়িত্বে’ আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী ও জুলাই আন্দোলনের অগ্রপথিক জোবায়দুল ইসলাম বুলেট একাধিকবার বেতার কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে সতর্ক করেছিলেন যে, কিছু শিল্পী ও কর্মকর্তা এখনও ফ্যাসিবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং বেতারের ভেতরে চক্রবদ্ধভাবে কাজ করছে। কিন্তু বেতারের ডিজি ও পরিচালকদ্বয় সেই সতর্কতাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন।
ফলাফল?
আজও দেখা যাচ্ছে, জুলাই যোদ্ধাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা, গণঅভ্যুত্থানের প্রতি কটূক্তি ছোড়া, এমনকি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রুপ করা ব্যক্তিরাই রাষ্ট্রীয় বেতারে স্বচ্ছন্দে কাজ করছে।
অন্যদিকে, ২০২১ সালে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে উপস্থাপক ও সাংবাদিক নিশাত শাহরিয়ার কেবল সরকারের সমালোচনামূলক একটি মন্তব্য করায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে বেতারের সদর দপ্তর ও আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলো থেকে নিষিদ্ধ ছিলেন।
কিন্তু আজ, ফ্যাসিবাদের পতনের পরও, তাজুল ইসলাম সোহাগ প্রতি শনিবার ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রমে “দ্বিতীয় পালায়” অনুষ্ঠান করছেন—যেন কিছুই ঘটেনি।
বাংলাদেশ বেতারের অভ্যন্তরে এভাবে আওয়ামীপন্থী সিন্ডিকেটের পুনরুত্থান শুধু গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং জুলাই আন্দোলনের অর্জনকেও আঘাত করছে।
জাতির বিবেকবান মহল মনে করছে,
এটি নিছক একটি প্রশাসনিক অবহেলা নয়—এটি ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির নতুন রূপে পুনর্জাগরণ।
বাংলাদেশ বেতারের মতো জাতীয় গণমাধ্যম যদি এভাবে ফ্যাসিবাদের আখড়ায় পরিণত হয়, তাহলে নৈতিক পুনর্গঠন ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত হবে কীভাবে?
বর্তমান সরকারের উচিত দ্রুত অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে বেতারের আওয়ামী ঘেঁষা সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
কারণ, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রচারমাধ্যমে যদি পক্ষপাত, ফ্যাসিবাদ ও রাজনৈতিক পুনর্বাসন অব্যাহত থাকে—তাহলে এর দায় পুরোপুরি পড়বে বাংলাদেশ বেতারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উপর।
---
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
www.bangladeshprothomsangbad.com