জুলাই গণহত্যার দায় স্বীকার করলেন সজীব ওয়াজেদ জয়; ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে বললেন ‘প্রহসন’
নিজস্ব প্রতিবেদক | কলকাতা প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার মৃত্যুর দায়ভার প্রথমবারের মতো নিজের কাঁধে তুলে নিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভারতের কলকাতায় বিজেপি-ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘খোলা হাওয়া’ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই ঐতিহাসিক স্বীকারোক্তি দেন।
১. দায় স্বীকার ও অনুশোচনা
দীর্ঘ আধা ঘণ্টার বক্তৃতায় জয় স্বীকার করেন যে, কোটা সংস্কার নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি অত্যন্ত ন্যায্য ছিল। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের আন্দোলনে যত নিরপরাধ ছাত্র এবং সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায় আমি নিচ্ছি।” পরিস্থিতির এই অবনতিকে তিনি সরাসরি সরকারের একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে তিনি দাবি করেন, সরকার বা পুলিশ আগ বাড়িয়ে সহিংসতা শুরু করেনি, বরং আন্দোলনের আড়ালে থাকা কট্টরপন্থীরাই নাশকতা শুরু করেছিল।
২. ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কড়া বার্তা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনকে জয় একটি ‘একতরফা প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার প্রধান যুক্তিগুলো হলো:
আওয়ামী লীগকে বর্জন: দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ রেখে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
দ্বিমুখী লড়াই: বর্তমান নির্বাচন কেবল বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে একটি সমঝোতার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
গণতন্ত্রের অভাব: জাতীয় পার্টির মতো দলগুলোকেও প্রচার করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
৩. ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক রাজনীতি
বক্তৃতায় জয় ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে বর্তমানে জামায়াত এবং পাকিস্তানপন্থী শক্তিগুলো ‘ফ্রি হ্যান্ড’ পেয়ে যাচ্ছে। জামায়াত সরাসরি ক্ষমতায় না থাকলেও নেপথ্য থেকে কলকাঠি নাড়বে, যা ভারতের পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই পরিস্থিতি রুখতে তিনি আন্তর্জাতিক মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
৪. অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি প্রশ্ন
জয় তার বক্তব্যে পাল্টা অভিযোগ করে বলেন যে, ৫ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে কয়েকশ আওয়ামী লীগ কর্মী ও পুলিশ সদস্যকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই গণহত্যার দায়ভার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।