জুলাই-আগস্ট গণজাগরণে শেখ হাসিনার অপরাধসমূহ: রাষ্ট্রদ্রোহ, গণহত্যা, বিদেশী গোয়েন্দার সহায়তায় ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা ও জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ
প্রকাশনায়: দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
জনতার কণ্ঠস্বর
ঢাকা, ৩০ জুলাই ২০২৫
গত বছরের জুলাই-আগস্ট বাংলাদেশে যে রক্তক্ষয়ী গণজাগরণ ঘটে, তার ইতিহাসে রাষ্ট্রযন্ত্র কর্তৃক সংগঠিত অপরাধের এক ভয়ংকর খতিয়ান লিপিবদ্ধ হয়ে যায়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং পরিণামে ভয়াবহ দমনপীড়নের এক নিষ্ঠুর অধ্যায় সৃষ্টি হয়। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের নেতৃত্ব যেমন জাতিকে দিকনির্দেশনা দেয়, তেমনি শেখ হাসিনার অপরাধমূলক কার্যকলাপ দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দেয় একটি সরকারের কতটা নীচু স্তরে নামা সম্ভব।

জুলাই-আগস্ট: শেখ হাসিনার অপরাধের খতিয়ান
১. রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও দমন-পীড়ন
২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে যে গণআন্দোলন শুরু হয়, তা দমন করতে শেখ হাসিনা সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল— কোথাও বাদ যায়নি। নির্বিচারে ছাত্রদের ওপর গুলি, গ্রেফতার ও গুমের ঘটনা ঘটে।
২. গণহত্যা ও গুম
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, জুলাই-আগস্টে অন্তত ৩৬ জন শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীর মৃত্যু হয়, যার অধিকাংশই ছিল টার্গেটেড কিলিং।
‘RAB’ এবং ‘DB’-কে ব্যবহার করে রাতের অন্ধকারে শতাধিক যুবককে তুলে নেওয়া হয়। অনেকেই এখনো নিখোঁজ।
৩. বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা RAW-এর সাথে সরাসরি আঁতাত
সরকার যখন দেশজুড়ে আন্দোলন দমন করতে ব্যর্থ হয়, তখন RAW-এর মাধ্যমে ভারতীয় সাইবার অপারেটর ও এজেন্টদের দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়।
আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’, ‘জামাতপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়।
৪. সাংবাদিক ও গণমাধ্যম দমন
একের পর এক অনলাইন সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিবিসি, আলজাজিরা, ডয়চে ভেলে প্রভৃতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টারদের উপর হুমকি আসে।
দেশি সাংবাদিকদের উপর নির্যাতন চালানো হয়। কারা সাংবাদিক আশরাফুলকে তুলে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে, তার আজও জবাব মেলেনি।
৫. ইন্টারনেট শাটডাউন ও তথ্য নিয়ন্ত্রণ
সরকার একাধিকবার দেশব্যাপী ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে।
‘ইনফরমেশন ব্ল্যাকআউট’ তৈরি করে বিশ্ববাসীর কাছ থেকে আন্দোলনের সত্যতা লুকানোর চেষ্টা করা হয়।
৬. চীন ও ভারতের দ্বৈত দ্বারস্থ হয়ে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব বিসর্জন
শেখ হাসিনা চীনের কাছে রাজনৈতিক সমর্থন চায় এবং ভারতে RAW-এর হাত ধরে নিজেকে রক্ষা করতে উঠে পড়ে লাগে।
এর ফলে দেশের কূটনৈতিক সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশ হয়ে পড়ে এক পরাশক্তির খেলনার মতো।
৭. অভ্যন্তরীণ গুপ্তচরবৃত্তি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা
শেখ হাসিনার সরকার ছাত্রনেতাদের অভ্যন্তরীণভাবে নজরদারির মাধ্যমে ‘টার্গেট’ নির্ধারণ করে তাদের উপর হামলা চালায়।
তাতে আওয়ামী লীগ ছাত্রসংগঠনকে অস্ত্র দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়, যাদের হাতে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
শেখ হাসিনা: ক্ষমতার লোভে এক জঘন্যতম রাজনৈতিক মুখ
শেখ হাসিনা এই আন্দোলনকে দমন করতে গিয়ে যা করেছে, তা কেবল একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা নয়, এটি একটি জাতীয় বিশ্বাসঘাতকতা।
একজন রাষ্ট্রনায়ক জাতিকে রক্ষা করেন— শেখ হাসিনা জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামেন।
তিনি ইতিহাসের সেই কলঙ্কিত শাসক, যিনি নিজের গদি বাঁচাতে ছাত্রের রক্ত ঝরিয়েছেন, গণমাধ্যম বন্ধ করেছেন, বিদেশি গোয়েন্দা দিয়ে দেশ চালাতে চেয়েছেন।
তারেক রহমান: নেতৃত্বের প্রতিভা ও প্রতিরোধের ভাষা
এই ভয়ংকর দমনপীড়নের মাঝেও ভবিষ্যতের রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান ছিলেন আশার বাতিঘর।
তিনি দৃঢ়ভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তথ্য তুলে ধরেন, আন্দোলনের সত্যচিত্র তুলে ধরেন। তাঁর নির্দেশনায় ঘোষিত হয় ‘March for Justice’ কর্মসূচি, যেটি অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সমর্থন একত্রিত করে জাতিকে সংগঠিত করে তোলে।
তিনি ইতিহাসের কাছে এই বার্তাই পৌঁছে দেন—
> “রাষ্ট্র যদি গণতন্ত্র হত্যা করে, জাতি বিদ্রোহ করবে। আর নেতৃত্ব তখন আসবে বিবেকবান হৃদয় থেকে, গায়ের জোর নয়।”
ইতিহাসের দায় রয়ে গেছে
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট এক রক্তাক্ত বাস্তবতা।
শেখ হাসিনার অপরাধমূলক অপশাসন, জাতির বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ, এবং তারেক রহমানের নৈতিক নেতৃত্ব— সবকিছু মিলে এই সময়কাল একটি স্পষ্ট পাঠ তৈরি করে দেয়।
এটি ছিল জনতার ঘুম ভাঙার সময়, স্বৈরতন্ত্রের পতনের সূচনালিপি।