তারিখ: ১ জুলাই ২০২৫ | বিবৃতি: জনাব তারেক রহমান
বিষয়: জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান
বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই-আগস্ট ২০২৪ গণঅভ্যুত্থান এক বেদনাবিধুর কিন্তু গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়—যেখানে একদিকে ছিল নিষ্ঠুরতম স্বৈরতন্ত্র, আর অন্যদিকে ছিল জনগণের দুর্বার প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ ও গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা।

দীর্ঘ পনেরো বছরেরও বেশি সময় ধরে এই জাতি এক দুঃসহ নিপীড়নের ভার বইছে। এই সময়কালে হাজারো নাগরিক, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, নারী, এমনকি শিশুরাও—রাষ্ট্রীয় দমনযন্ত্রের শিকার হয়েছেন। নিখোঁজ, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে হারিয়ে গেছেন অনেকেই।
২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়, তা ছিল স্বাধীনতা ও অধিকার ফিরে পাওয়ার এক মরিয়া প্রচেষ্টা। এই দুই মাসে শহীদ হয়েছেন অন্তত ১,৫০০ নাগরিক—যাঁদের মধ্যে ৪২২ জন ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ও সহমর্মীরা। আহত হয়েছেন ৩০,০০০-এর বেশি মানুষ, যাঁদের অনেকে আজীবনের জন্য পঙ্গু।
আরো হৃদয়বিদারক সত্য হচ্ছে—মাত্র ৩৬ দিনের ব্যবধানে নিহত হয় ১৩৬টি শিশু। চার বছরের আব্দুল আহাদ, ছয় বছরের রিতা গোপ—তাঁদের নিষ্পাপ মুখ আজ আমাদের বিবেককে জাগিয়ে তোলে। প্রশ্ন রাখে—আমরা কী সত্যিই একটি সভ্য রাষ্ট্রে বাস করি?
এই গণঅভ্যুত্থান বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এটি ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৭ নভেম্বর ১৯৭৫-এর জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম, ও ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতা। গণমানুষের স্বপ্ন আজ আবার জেগে উঠেছে—আর সেই স্বপ্নের ভিত গড়েছেন শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধা, ওয়াসিমসহ শত সহস্র অজানা known and unknown শহীদগণ।
আজ ইতিহাস আমাদের সামনে এক মহামূল্যবান সুযোগ এনে দিয়েছে—একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার সুযোগ।
একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক, সুবিচারভিত্তিক রাষ্ট্র—যেখানে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবে, জবাবদিহি করবে, এবং রাষ্ট্র হবে জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা পরিচালিত।
আমরা এই রক্তাক্ত অধ্যায়ের শিক্ষা নিয়ে নতুন রাষ্ট্র নির্মাণের পথে এগিয়ে যাবো। আর কখনো যেন শহীদের রক্ত বৃথা না যায়।
এইবার গণতন্ত্রের বিজয় হবেই।
— তারেক রহমান
আগামী রাষ্ট্রনায়ক, বাংলাদেশ
সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি