জামালপুরে জোরপূর্বক দখলকৃত জমি ফেরত পেতে সাংবাদ সম্মেলন
জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পচা বহলা গ্রাম এলাকায় জোরপূর্ব বেদখলকৃত আবাদি জমি ফেরত পেতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন জমির মালিক এবং ভুক্তভোগী পরিবার।
শুক্রবার(৩০ জানুয়ারি )বেলা ১২ টায় সিংহজানি স্কুল রোডে বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাষ্ট অফিস কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ভুক্তভোগী জমির মালিক আব্দুর রউফ আনছারীর ২য় পুত্র মোঃ ছারোয়ার হোসেন সুজন।
সংবাদমাধ্যমকে মোঃ ছারোয়ার হোসেন সুজন ও তার পরিবারের সদস্যরা বলেন, স্বৈরচার সরকারের দোসর মোঃ শহিদুর রহমান সরকার, মোঃ মফিজল সরকার, উভয় পিতা মৃত মোতালেব সরকার। মোঃ আব্দুল হামেদ সরকার হাজি ও মোঃ উসমান সরকার, উভয় পিতা মৃত আব্বাস আলী সরকার গংরা ভূমিদস্যু ও দখলবাজ। অতীতের স্বৈরাচারী সরকারের অবৈধ ক্ষমতা বলে দীর্ঘদিন আমাদের আবাদি জমি দখল করে রেখেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে বলেন আমার বাবা মোঃ আব্দুর রউফ আনসারী সহজ সরল একজন স্কুল শিক্ষক। তার এই সরলতাকে পুঁজি করে দখলদাররা ইসলামপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পচাবহলা মৌজার মধ্য সিএস ৮৪৭ নং খতিয়ানের ২০৮৭, ২০৮৮,২০৮৯,২১৪২,২১৫৬,নং দাগের যথাক্রমে ১১৩, ৮৫,৩১,৮৮,১৫৪নং দাগের ভূমি সহ মোট ২০৪৬ শতাংশ ভূমি সিএস রেকর্ডকৃত মালিক ছিলেন মাহমুদ আলী সরকার। তিনি তার প্রাপ্ত ভূমিতে ভূমিদখল থাকা অবস্থায় নহর মন্ডল ও আকবর সরকারকে রেখে মারা গেলে উল্লেখিত দাগের দুই পুত্র সন্তান সমভাবে ভাগ করে ৯৫০ শতাংভূমি ভোগ দখল অবস্থায় নফর মণ্ডল এক পুত্র সন্তান মুরাদুজ্জামান কে রেখে পরলোকগমন করেন, মুরাদুজ্জামান ৯৫০ শতাংশ জমি ভোগদখল অবস্থায় তার একমাত্র পুত্র সন্তান মোঃ আব্দুর রউফ আনসারী কে রেখে মৃত্যুবরণ করেন। জমির মালিক সহজ সরল হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তার ভূমি অংশ থেকে ৪৩৭ শতাংশ জমি জোর করে দখলে জোর করে দখলে রেখেছেন। আকবর আলী সরকার জীবিত অবস্থায় তার প্রয়োজনে জমি বিক্রি করতে চাইলে আমার দাদা মুরাদুজ্জামান ছাফ কওলাআ ২.৪২ শতাংশ জমি দলিল মূলে ক্রয় করেন। দলিল ১৯৪১ সালের ৩১৫১নম্বর। এই দলিলের বিপরীতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গত ১৩৫৩ বাংলা সনের পাকিস্তানের রেভিনিউ স্ট্যাম্পের মাধ্যমে একটি আমলনামা তৈরি করেন। বাংলা সন হিসাব করে দেখা যায় সময়কালটি ব্রিটিশ শাসন আমল। সেই সময় পাকিস্তানের রেভিনিউ স্ট্যাম্প হয়নি। ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর তারা রেভিনিউ স্ট্যাম্প তৈরি করে। আমলনামাটির মধ্য যে তারিখ উল্লেখ করা আছে তা হিসাব করে দেখা যায় ব্রিটিশ আমলের ১৯৪৭ সালের ১৫ ই ফেব্রুয়ারি। এতে বোঝা যায় উক্ত আমলনামাটিও অসততার মাধ্যমে জাল তৈরি করেছেন। দখলকৃত জমি ফেরত পাওয়ার আশায় জামালপুর জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। মামলার নাম্বার ৩২৫ /২৫, ওয়ারিশ সূত্র প্রাপ্ত জমি দখল পেতে চাইলে দখলদাররা আমাদেরকে নানাভাবে হুমকি প্রদান ও হয়রানি করে আসছে। এতে আমার পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং আমার পিতা স্কুল শিক্ষক ভয়-ভীতি ও হুমকির উপর জীবনযাপন করছেন। আমরা এর প্রতিকার চাই।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে গণমাধ্যমে সুদূর প্রসারী ভূমিকার মাধ্যমে চাঁদাবাজ বাজ ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে যা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। তাই এই সন্ত্রাসীদের থেকে দখলকৃত জমি ফেরত এবং আইনশৃঙ্খলের কাছে আপনারা সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিচার দাবি এবং প্রশাসনে সুদৃষ্টি কামনা করছি। ও
সাংবাদিক সম্মেলনে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া,প্রিন্ট মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।