জাতীয় কঠিন চীবর দানোৎসব হোক
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম ঐক্যের প্রতীক
এস চাঙমা সত্যজিৎ
স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমার উদ্যোগে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি পার্বত্য জেলার মোনঘর আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় কঠিন চীবর দানোৎসব। এ জাতীয় কঠিন চীবর দানোৎসবকে সফল ও সাফল্য মণ্ডিত করার জন্য তিনি সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রিয় সদ্ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ সমাজ, পূজনীয় ভিক্ষুসংঘ ও ভান্তেগণ, বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, প্রিয় যুব সমাজ ও শুভানুধ্যায়ী বন্ধুগণ। বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমা আরও বলেন, আপনাদের প্রতি আমার প্রণাম ও মৈত্রীময় শুভেচ্ছা।
আগামী ১১ অক্টোবর ২০২৫ পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি পার্বত্য জেলার মোনঘর আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় কঠিন চীবর দানোৎসব। এ মহতী উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমা।
আজ ১৩ আগস্ট ২০২৫, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনের সভাপতিত্বে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সভায় এই বিষয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন- ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব এ কে এম আফতাব হোসেন প্রামাণিক, ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমা এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সদস্যবৃন্দ প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, মেজর (অবঃ) ডাঃ অজয় প্রকাশ চাকমা, মং হ্লা চিং, ববি বড়ুয়া, রাজিব কান্তি বড়ুয়া, সুশীল বড়ুয়া, রুবেল বড়ুয়া প্রমুখ।
এ মহতী আলোচনা সভায় আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা, সাবেক রাষ্ট্রদূত (অবঃ) সুপ্রদীপ চাকমা মহোদয়ের সাথেও গঠনমূলক মতবিনিময় করি। তিনি এই উদ্যোগের প্রতি আন্তরিক সমর্থন জানিয়েছেন। এতে আমাদের আরও সাহস জুগিয়েছেন তিনি।
এটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম জাতীয় কঠিন চীবর দানোৎসব।
বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে, মোনঘর কর্তৃপক্ষের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এ মহান জাতীয় কঠিন চীবর দানের আয়োজন করা হবে।
এ মহান জাতীয় কঠিন চীবর দানোৎসবকে অলঙ্কৃত করবেন প্রধান অতিথি হিসেবে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন সাপেক্ষে উপস্থিত থাকবেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস মহোদয়।আরও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সাবেক রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমা।
ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমা আরও বলেন, প্রিয় সদ্ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ নরনারী বন্ধুগণ, আমি আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে বলছি- এটি হতে যাচ্ছে পাহাড় ও সমতলের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের এক দৃঢ় সেতুবন্ধন।
এখানে মিলবে আমাদের সংস্কৃতির শিকড়, আমাদের ভক্তির স্রোত, আর আমাদের আত্মমর্যাদার উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।
কঠিন চীবর দান যা মহামতি গৌতম বুদ্ধ স্বয়ং শ্রেষ্ঠ দান হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং এই প্রথমবার জাতীয়ভাবে পালিত হবে আমাদের বাংলাদেশে।
এটি হবে এক ঐতিহাসিক মহোৎসব, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে যাবে ভক্তি, ঐক্য ও গৌরবের অনন্য উদাহরণ হিসেবে।
তিনি আরও হৃদয়ের গভীর থেকে আহ্বান জানাচ্ছেন,
আপনি, আপনার পরিবার, আপনার বন্ধু, শুভানুধ্যায়ী সবাই মিলে আসুন এই মহতী পুণ্যানুষ্ঠানে।
আপনার উপস্থিতিই হবে এই উৎসবের প্রকৃত গৌরবের মহিমা।
জাতীয় কঠিন চীবর দানোৎসব হোক ঐক্যের প্রতীক, প্রজন্মের প্রেরণা।
আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐক্যের আলো ছড়িয়ে দিই পুরো জাতিতে।
এস চাঙমা সত্যজিৎ
স্টাফ রিপোর্টার দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ।