জনকণ্ঠে গণচাকরিচ্যুতি: ব্যানার কালো করার প্রতিবাদ করায় বরখাস্ত ২০ সাংবাদিক, প্রতিবাদে সংবাদ বর্জন
তারিখ: ২ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ, জনতার কণ্ঠস্বর
ঢাকা:
দেশের প্রাচীন ও খ্যাতনামা দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় হঠাৎ করে ২০ জন সাংবাদিককে একযোগে চাকরিচ্যুত করার ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পত্রিকাটির মালিকপক্ষ আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে পত্রিকার ব্যানার রঙ লাল থেকে কালো করে দেয়। এতে আপত্তি জানিয়ে প্রতিবাদ করলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জনকণ্ঠের প্রায় সব সংবাদকর্মী একযোগে সংবাদ প্রচার বন্ধ রেখেছেন। বর্তমানে পত্রিকার অনলাইন ও প্রিন্ট উভয় সংস্করণেই কার্যত রিপোর্টিং থেমে গেছে। এ ঘটনাকে সাংবাদিক মহলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বরখাস্ত হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে রিপোর্টার, সাব-এডিটর, ফিচার লেখক থেকে শুরু করে আলোকচিত্রী পর্যন্ত রয়েছেন। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, মালিকপক্ষ সাংবাদিকদের কোনো শুনানির সুযোগ না দিয়েই একতরফাভাবে চাকরিচ্যুতির নোটিশ ধরিয়ে দেয়। শুধু মতপ্রকাশ ও নীতিগত অবস্থানের কারণেই তারা শাস্তির শিকার হয়েছেন বলে দাবি তাঁদের।
জনকণ্ঠ পত্রিকার ভেতরে কর্মরত এক সিনিয়র সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন:
“আমরা শুধুমাত্র বলেছিলাম—একটি সংবাদপত্র কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরাসরি যুক্ত হতে পারে না। ব্যানারে কালো রঙ করা আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা সাংবাদিকতার নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আর তার প্রতিবাদেই এই নির্মম বরখাস্ত।”
সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিএফইউজে, ডিইউজে এবং সম্পাদক পরিষদ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনগুলো বলছে, এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে। একটি সংবাদপত্রের ভেতরে ভিন্নমতের জন্য সাংবাদিকদের বরখাস্ত করা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অশনি সংকেত।
বিএনপিপন্থী সাংবাদিকদের সংগঠন “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফোরাম” এক বিবৃতিতে বলেছে:
“এটি শুধুমাত্র একটি পত্রিকার সংকট নয়—এটি গোটা গণমাধ্যম জগতের সংকেত। জনকণ্ঠ আজ তার ইতিহাসকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।”
এদিকে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের অনেকেই বলছেন, তাঁরা ন্যায়বিচারের দাবিতে আইনি ব্যবস্থা নেবেন এবং প্রয়োজন হলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশেও নামবেন।
এই ঘটনায় জনকণ্ঠের পাঠকরাও বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—“পত্রিকা না কি সরকারি প্রচারপত্র?”
প্রসঙ্গত, জনকণ্ঠ একসময় ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পত্রিকা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পত্রিকাটি সরকারি দল আওয়ামী লীগের হয়ে প্রকাশ্য প্রোপাগান্ডায় জড়িত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আজকের এই ঘটনার মাধ্যমে সেই প্রশ্ন যেন আরো দৃঢ়ভাবে সামনে এসেছে।
সাংবাদিক সমাজের একাংশ বলছেন, যতক্ষণ না বরখাস্ত সাংবাদিকদের ফিরে আনা হচ্ছে এবং জনকণ্ঠ আবার সাংবাদিকতার ন্যূনতম স্বাধীনতায় ফিরছে, ততক্ষণ এই প্রতিবাদ চলবে।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
জনতার কণ্ঠস্বর
www.prothombangladesh.com