স্টাফ রিপোর্টার: মো. শাহজাহান বাশার
বুড়িচং, কুমিল্লা | ১৯ জুলাই ২০২৫
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ছিনাইয়া ও পার্শ্ববর্তী আনন্দপুর এলাকায় গড়ে উঠেছে এক নতুন সামাজিক প্রতিবাদের ধারা—যেখানে পুলিশ নয়, সাধারণ যুব সমাজ-ই প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ করছে ভয়াল মাদকের বিস্তার। শুক্রবার (১৯ জুলাই) স্থানীয় তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক সাহসিকতাপূর্ণ অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩০ কেজি গাঁজা, আর আটক হয়েছেন তিনজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, যাদের একজন পুরুষ ও দুইজন নারী।
আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হলেন উত্তর আনন্দপুরের হাবুল মিয়ার ছেলে জেনারুল, যিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ধরা পড়েছেন দুই নারী, যাদের বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিনের মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এই অভিযান ছিল পূর্ব পরিকল্পিত, সংগঠিত ও কৌশলনির্ভর। স্থানীয় তরুণরা দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার মাদক চক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে আসছিলেন। নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে হানা দিয়ে তারা নিজ হাতে আটক করেন চক্রের সদস্যদের এবং সঙ্গে সঙ্গে খবর দেন বুড়িচং থানায়। পুলিশ এসে আসামিদের হেফাজতে নেয় এবং গাঁজাসহ থানায় নিয়ে যায়।
বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এক বিবৃতিতে বলেন,
“ছিনাইয়ার যুব সমাজ আমাদের চোখে এখন এক উদাহরণ। তারা সমাজের দায়িত্ব যে কতটা গঠনমূলকভাবে নিতে পারে, সেটাই তারা দেখিয়েছে।”
অভিযানে অংশ নেওয়া এক যুবক বলেন,
“আমরা কারও বিরুদ্ধে না। আমরা শুধু চাই, আমাদের ভাই-বোনেরা মাদকের ছোবলে না হারিয়ে যাক। ছিনাইয়া থেকে মাদক নির্মূল করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
তাদের দৃঢ়তা আর সংহত প্রচেষ্টা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছে পুরো গ্রামবাসী।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছিনাইয়া এলাকায় গড়ে উঠছে এক ধরণের সামাজিক বিপ্লব। তরুণদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা ও সাহসিকতা ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। অভিভাবকরা সন্তানের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন।
গ্রামের এক প্রবীণ ব্যক্তির ভাষ্য,
“এই তরুণদের দেখে আমরা গর্বিত। এদের হাতেই এলাকার ভবিষ্যৎ।”
একজন মা বলেন,
“আমার সন্তানেরা যেন মাদকের ছায়া না দেখে—এটাই চাই। এ ধরনের সাহসী উদ্যোগ আরও বাড়ুক।”
স্থানীয় মসজিদের ইমাম, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারাও এই তরুণদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
যখন রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ই মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বিগ্ন, তখন ছিনাইয়ার যুবকদের এই উদ্যোগ পুরো দেশের তরুণ সমাজের জন্য এক বাস্তব দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। মাদকের বিরুদ্ধে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুললে, পরিবর্তন সম্ভব—এই বার্তাই তারা দিয়ে গেল।
ছিনাইয়া আজ শুধু এক গ্রামের নাম নয়—এটি এখন এক আশার প্রতীক।