১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ১১:৩০
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | জনতার কণ্ঠস্বর
www.bangladeshprothomsangbad.com
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন এক তরুণ—সাদিক কায়েম। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে তিনি দ্রুত যুক্ত হয়েছিলেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। তার ধারণা ছিল রাজনীতি মানেই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা, ব্যানারে মুখ ছাপা আর মাইকে স্লোগান দেওয়া। কিন্তু খুব দ্রুতই তিনি টের পান সংগঠনের ভেতরের জটিল বাস্তবতা—সিট বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি আর দখল রাজনীতি।
এই হতাশা থেকেই সাদিক কায়েম রাজনীতির অন্য প্রান্তে পা বাড়ান। শিবিরের সংগঠিত কাঠামো, লেকচার আর বিতর্কের রাজনীতিতে নিজেকে নতুনভাবে খুঁজে পান। তবে ক্যাম্পাসে অনেকে তখনও তাকে নানা নামে আখ্যা দিত—কেউ বলতো ছাত্রলীগের লোক, আবার কেউ বলতো শিবিরের সৈনিক। আসলে তিনি দু’দিককেই ব্যবহার করছিলেন নিজের লক্ষ্য পূরণের পথে।
সময় পেরিয়ে যায়। আন্দোলন, দমন, রক্তক্ষয়—সব কিছুর ভেতর দিয়ে ক্যাম্পাস অস্থির হয়ে ওঠে। এ সময় অনেকে ভেবেছিলো সাদিক কায়েম রাজনীতির মঞ্চ থেকে হারিয়ে গেছে। কিন্তু ডাকসু নির্বাচনের ঘোষণার সাথে সাথেই আবার সামনে চলে আসেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে তখন শুধু একটি নাম—
ডাকসুর ভিপি পদপ্রার্থী সাদিক কায়েম।
প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই আলোচনার ঝড় ওঠে। তার অতীত নিয়ে বিতর্ক ছিল প্রবল, কিন্তু ভোটের বাক্সে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেন তিনি।
ফল ঘোষণার দিন মিলনায়তনে যখন জানানো হলো নতুন ভিপি সাদিক কায়েম, তখন মুহূর্তেই নীরব হয়ে যায় উপস্থিত সবাই। এক তরুণ, যিনি একসময় ছাত্রলীগে, পরে শিবিরে—আজ তিনি ডাকসুর সর্বোচ্চ আসনে।
ভোটের ফলের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন,
“আমি কারও নই—আমি কেবল সময়ের সন্তান।”
এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। অনেকে বলছেন, এটাই ক্যাম্পাস রাজনীতির উল্টোপাল্টা বাস্তবতা, আবার অনেকে এটাকে দেখছেন টিকে থাকার জন্য রঙ বদলের কৌশল হিসেবে।