দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
জনতার কণ্ঠস্বর
তারিখ: ৩ আগস্ট ২০২৫, রবিবার
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের বাবুপুর চ্যালকাপাড়া গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘটিত হয়েছে এক ভয়াবহ হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা। সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছেন মা-মেয়ে দুইজন নারী, বর্তমানে তারা শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার, ২ আগস্ট বিকেলে। আহতরা হলেন স্থানীয় বাসিন্দা সায়েমা বেগম (৪০) এবং তার কন্যা মরিয়ম খাতুন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক ঈদুল আযহা উপলক্ষে সরকারি ভিজিএফ চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে কালু বাঘ নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর থেকেই এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায়ই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এলাকাবাসী জানায়, ঘটনার দিন পারভেজ, পিতা তাজিবুল হক এর নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল হামলা চালায়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে মোঃ গাভু (পিতা জাব্বার), আবদুর রহমান (পিতা মোঃ আনারুল), বেদানা (আনারুলের স্ত্রী), কমেলা বেগম (হেরাশের স্ত্রী), ছবি বেগম (তাজিবুল হাজির স্ত্রী) এবং কালু বাঘের দুই কন্যা। এসময় তারা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ভাংচুর চালায়, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও আসবাবপত্র লুটে নেয়।
বাড়ির ভেতরে থাকা সায়েমা বেগম ও তার মেয়ে মরিয়ম বাধা দিলে তাদের উপর বেধড়ক মারধর চালানো হয়। পরে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় সায়েমা বেগম অভিযোগ করেন, “আমরা কালু বাঘ হত্যার ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নই। কিন্তু তারা আমাদের টার্গেট করে নির্দয়ভাবে হামলা চালিয়েছে, ঘরবাড়ি লুটে নিয়েছে, নারী হয়েও রেহাই পাইনি।”
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানিয়েছেন, “এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষীদের আইনের আওতায় আনতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর দাবি— অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আর কোনো পরিবার এমন সহিংসতার শিকার না হয়।