চাঁদাবাজির ভিত্তিহীন অভিযোগে ছাত্রদল-যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার: ফেসবুক পোস্টে পাল্টা চ্যালেঞ্জ
ঢাকা | ২৭ জুলাই ২০২৫
বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন, ছাত্রদল নেতা মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাসির উদ্দিন নাসিরকে লক্ষ্য করে সামাজিক মাধ্যমে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর বিপরীতে এবার সরাসরি প্রমাণ চেয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা।
একটি ফেসবুক পোস্টে বিএনপির সক্রিয় কর্মী আসিফ সৈকত লিখেছেন—
"যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন এক লাখ টাকা চাঁদা দাবী করছে এমন একটা এভিডেন্স দেখান, একটাই দেখান। ছাত্রদলের Md Rakibul Islam Rakib, Nasir Uddin Nasir এর বেলাতেও একই কথা বললাম। লন চ্যালেঞ্জ।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির কিছু সুবিধাভোগী মহল নিজেরা সাংগঠনিক দুর্নীতিতে জড়িত থেকে মাঠের কর্মীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘চাঁদাবাজ’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে। তার ভাষায়—
"আপনাগো টার্গেটই আছিলো—নিজেরা চাঁদাবাজি করবেন দেদারসে আর টার্গেটেড মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার করবেন ছাত্রদল-যুবদলের মাঠের নেতৃত্বকে।"
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিমত, এই ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীগুলোর ষড়যন্ত্রের অংশ। যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন একজন পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সুপরিচিত এবং বরাবরই রাজপথে সক্রিয়। একইভাবে রাকিব ও নাসির ছাত্রদলের পরিচিত ত্যাগী মুখ।
তারা উল্লেখ করেন, এদের কারো বিরুদ্ধেই এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ, অডিও বা ভিডিও প্রমাণ, কিংবা থানায় সাধারণ ডায়েরি পর্যন্ত নেই। বরং ফেসবুকে ভিত্তিহীন পোস্ট ও গুজব ছড়িয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাই এই অপপ্রচারের উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন অনেকে।
খুলনা বিভাগ ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতার ভাষ্য, “এই ধরনের অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। না হলে মাঠের নেতৃত্ব বিভ্রান্ত ও নিরুৎসাহিত হবে।”
তারা আরও বলেন, “যদি প্রমাণ থাকে, তাহলে তা প্রকাশ করে আইনি পথে বিচার চাইতে হবে। আর প্রমাণ না থাকলে এই অপমানজনক অপপ্রচার অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলে, যেখানে রাজপথের ত্যাগী কর্মীদের সাহসিকতা ও নিষ্ঠাই আন্দোলনের ভিত্তি, সেখানে ভিত্তিহীন অপবাদ দলের ভেতরের ঐক্য ও গতিকে দুর্বল করে দিতে পারে।