শৃঙ্খলা ভঙ্গে জিরো টলারেন্স: একদিনেই বিএনপিতে ২৬ নেতা বহিষ্কার
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য এবং সংগঠনবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে রাজধানীর ১৫ জন নেতাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মোট ২৬ জন নেতাকর্মীকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
রাজধানীর যেসব নেতা বহিষ্কৃত হলেন:
ঢাকা মহানগর উত্তর ও বিভিন্ন থানার গুরুত্বপূর্ণ পদের নেতাদের এই তালিকায় রাখা হয়েছে। তারা হলেন:
ঢাকা মহানগর উত্তর: সদস্য মোহাম্মদ আলী।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা: যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সোলেমান, মোজাহিদুল ইসলাম ও মোঃ হুমায়ুন কবির।
তেজগাঁও থানা: যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন, আবু জাফর পাটোয়ারী, তলিকুল ইসলাম বাহারুল ও মোঃ হুমায়ুন কবির।
হাতিরঝিল থানা: আহ্বায়ক নাজমুল হক মাসুম ও যুগ্ম আহ্বায়ক আশ্রাফ হোসেন চৌধুরী অপু।
শেরেবাংলা নগর থানা: যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন ফারুক রাশেদ ও সদস্য সানাউল হক।
ওয়ার্ড পর্যায়: ২৪ নং ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি মোঃ হানিফ, ৩৫ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম কিংকিং এবং ২৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি নূরুল হক নুরু।
ঢাকার বাইরে বহিষ্কৃতদের তালিকা:
রাজধানীর বাইরে ময়মনসিংহ, গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলাতেও সাংগঠনিক ব্যবস্থার খড়গ নেমেছে।
ময়মনসিংহ: ফুলবাড়ীয়া উপজেলার মো. সোলায়মান রিপন, মো. মফিজ উদ্দিন, নজরুল ইসলাম সংগ্রামসহ ৬ জন।
গাইবান্ধা: ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সাদেকুল ইসলাম নান্নুসহ ৪ জন।
দিনাজপুর: জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সাহাজুল।
কেন এই কঠোর ব্যবস্থা?
দলীয় সূত্রমতে, ২০২৬ সালের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের ভাবমূর্তি বজায় রাখা হাইকমান্ডের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে ৫ই আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং বিশৃঙ্খলার যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করেই এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আগেই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছিল যে, অপরাধী যেই হোক, তার জায়গা বিএনপিতে হবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরণের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।