চট্টগ্রামে ৫ লক্ষাধিক টাকার থ্রি-হুইলার পার্টস আত্মসাৎ: বন্দরের কাভার্ডভ্যান চালকসহ চারজন গ্রেপ্তার
স্টাফ রিপোর্ট, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় পণ্য পরিবহনের সময় ৬১ কার্টুন (প্যাকেজ) থ্রি-হুইলার পার্টস আত্মসাতের ঘটনায় চালকসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) বন্দর থানা। উদ্ধার করা হয়েছে চোরাই পার্টসের উল্লেখযোগ্য অংশ। আত্মসাৎকৃত মালামালের বাজারমূল্য প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা।
ঘটনার সূত্রপাত: কাভার্ডভ্যান ও বিশ্বাসভঙ্গ
থ্রি-হুইলার পার্টস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এ.আর. ট্রেডিং ও এ.আর. ইন্টারন্যাশনাল-এর মালিক জনাব মো. আব্দুল গণি (৩৮) সম্প্রতি চীন থেকে মোট ১,২৪৯ কার্টুন থ্রি-হুইলার পার্টস আমদানি করেন। ১১ জুলাই সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বন্দরের জে.আর ইয়ার্ড থেকে ৫০৯ কার্টুন একটি কাভার্ডভ্যানে (রেজিঃ চট্ট-মেট্রো-ট-১১-৭৭৩৮) লোড করা হয় এবং চালক মো. ফারুক (৪২)-কে চালানসহ দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
১২ জুলাই রাত ১১:৫৫ টার দিকে কাভার্ডভ্যানটি ঢাকায় পৌঁছালেও গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো ৫০৯ কার্টুনের মধ্যে ৬১ কার্টুন অনুপস্থিত পাওয়া যায়। পরবর্তীতে চালক ফারুক গাড়ি নিয়ে গা-ঢাকা দেন।
বন্দর থানায় মামলা, তদন্তে টার্নিং পয়েন্ট
ব্যবসায়ী আব্দুল গণি ১৯ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ করলে, তাৎক্ষণিকভাবে মামলা নং ১১, ধারা ৪০৭/১০৯ দণ্ডবিধি অনুসারে মামলা রুজু করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কিশোর বড়ুয়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান শুরু করেন।
আটক ও উদ্ধার অভিযান
১. নূর নবী (৪৮):
প্রথমে গ্রেফতার হন এ.আর ট্রেডিং দোকানের কর্মচারী নূর নবী। তার হেফাজত থেকে উদ্ধার হয় ১০০ জোড়া থ্রি-হুইলার PICK UP এবং ১২৬ পিস হাইড্রোলিক পিনিয়াম।
2. শেখ ফরিদ (২৩):
পরবর্তীতে আকবরশাহ থানাধীন সিডিএ রোড এলাকা থেকে গ্রেফতার হন শেখ ফরিদ। তার বাসা থেকে ১৪টি জলপাই রঙের বস্তা উদ্ধার করা হয়, যেগুলোর মধ্যে চারটিতে এ.আর ট্রেডিং-এর স্টিকার লাগানো ছিল।
3. লোকমান হোসেন (৫০):
এরপর হালিশহর থানাধীন বড়পুল এলাকার ভাঙ্গারির দোকান থেকে আটক করা হয় মো. লোকমানকে।
4. তাপস দাস (৪৭):
সর্বশেষ, সদরঘাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাপস দাসকে। তার হেফাজত থেকে ৩৭৫ জোড়া SA GOLD ব্র্যান্ডের থ্রি-হুইলার PICK UP উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য ও মামলার অগ্রগতি
সিএমপি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্তদের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা একটি চক্রের অংশ যারা নিয়মিত আমদানিকৃত পণ্য আত্মসাৎ করে থাকেন। পুলিশের ভাষ্য মতে, মূল চালক মো. ফারুক এখনও পলাতক, তবে তাকে ধরতে অভিযান চলছে।
সমাজে বার্তা: পেশাদার চোরচক্রের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, এমন পণ্যচুরি রোধে বন্দর, গ্যারেজ ও পরিবহন নেটওয়ার্কে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। আমদানিকারকদের সচেতন থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
---
শেষ কথা:
এ ঘটনা শুধু একটি আত্মসাৎ মামলা নয়—এটি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গড়ে ওঠা অপরাধী সিন্ডিকেটের চালচিত্র উন্মোচন করেছে। পুলিশ বলছে, এদের পেছনে আরও বড় অর্থনৈতিক চক্র থাকতে পারে, যা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।