ঘুষ কেলেংকারিতে বরখাস্ত APS মোয়াজ্জেমকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে নিয়োগ, মাগুরায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ
আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
স্টাফ রিপোর্টার: সোহেল রানা
মাগুরা: শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ঘুষ কেলেংকারিতে বরখাস্ত হওয়া, পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্তাধীন দেশের আলোচিত যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুইয়ার সাবেক এপিএস মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নতুন করে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই পদক্ষেপটি স্থানীয় জনগণ ও ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে ব্যাপক বিস্ময় ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
সূত্রে জানা যায়, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের স্মারক নং ৩৪.০৩.০০০০.০০০.০০৪.০১.০০০৫.২২০৪৭৪ এর মাধ্যমে মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে মাগুরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার ৯ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটির ৫ নম্বর সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপত্রে তার পরিচয় কলামে “ক্রীড়া সংগঠক” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই নিয়োগের প্রেক্ষাপট এবং বিতর্কের কারণের দিকে নজর দিলে দেখা যায়, মাগুরা জেলা প্রশাসক যে তালিকা পাঠিয়েছিলেন, সেখানে মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের নাম ছিল না। তিনি কখনো ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও পরিচিত নন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কে বা কারা তার নাম অন্তর্ভুক্ত করল এবং কেন এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে ক্রীড়া সংস্থার মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সদস্য করা হলো?
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একটি সূত্র জানায়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুইয়ার বিশেষ ইচ্ছাতেই মোয়াজ্জেমকে মাগুরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের দাবি, এটি উপদেষ্টার প্রভাবশালী অবস্থান ও ব্যক্তিগত প্রভাবের ফল।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
মাগুরার ক্রীড়ামোদীরা এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ এই নিয়োগকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা দাবি করেছেন, “এমন বিতর্কিত ব্যক্তির সঙ্গে আমাদের জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভায় বসতে হবে, যা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আমরা অবিলম্বে জেলা প্রশাসকের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী এডহক কমিটি পুনর্গঠন চাই।”
স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে জনমত স্পষ্ট: ঘুষ কেলেংকারিতে অভিযুক্ত ও দুর্নীতিবাজ এমন ব্যক্তিকে ক্রীড়া সংস্থার মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য এবং এটি জেলা ক্রীড়া পরিসরের নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার জন্য ক্ষতিকর।
প্রশাসনিক ও নীতিগত প্রশ্ন
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন নিয়োগ ক্রীড়া সংস্থার স্বচ্ছতা এবং সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করছে। যদি কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা উপদেষ্টা নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী সদস্য নিয়োগের ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, তবে সেটি প্রতিষ্ঠানকে স্বচ্ছতা ও নীতি-নির্ভরতা থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে মাগুরা জেলা প্রশাসক এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তাদের বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় ক্রীড়ামোদীরা বলছেন, “এই প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা না করলে আমরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমের প্রতি বিশ্বাস হারাবো।”
বিষয়টির প্রেক্ষাপট
মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে আগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টার সহায়ক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু ঘুষ কেলেংকারি ও শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তিনি বরখাস্ত হন। এই প্রেক্ষাপটের আলোকে দেখা যায়, তাঁর নতুন নিয়োগ ক্রীড়া সংস্থায় আরও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সমাপ্তি মন্তব্য
মাগুরার সর্বস্তরের মানুষ এবং ক্রীড়ামোদীরা এখনো প্রশ্ন করছেন, “দূর্নীতিবাজ একজন ব্যক্তি ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য হলে কীভাবে জেলা ক্রীড়ার স্বচ্ছতা ও নৈতিক মান বজায় রাখা সম্ভব?” জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে এবং বিতর্ক এড়িয়ে যেতে কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।