“ঘরের শত্রু বিভীষণ”: কেশবপুরে জামায়াত নেতার হাতে আওয়ামী চাঁদাবাজ মেয়রের মামলা!
যশোর প্রতিনিধি
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আদর্শ, বিশ্বাস, জনগণের স্বার্থ—সব আজ টাকার কাছে লজ্জায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে। যশোরের কেশবপুরে সেটিই আবারো প্রমাণিত হলো। যেখানে একসময় কেশবপুরের ত্রাস, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের সম্রাট হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগপন্থী সাবেক মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়লের পক্ষে আদালতে দাঁড়ালেন জামায়াত ইসলামী’র সাবেক উপজেলা নেতা অ্যাডভোকেট ওজিয়ার রহমান।
প্রতীকী ভাষায় বললে — রক্তচোষা ও বিষধর কেউটে এখন এক টেবিলে চা খাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, আদর্শের নামে যারা শহীদের রক্ত নিয়ে রাজনীতি করে, তারাই কি আজ আওয়ামী লীগের দুর্নীতিবাজ মেয়রদের দালালিতে নেমেছে?
রফিকুল ইসলাম: আওয়ামী লীগের চাঁদাবাজ সিংহাসনের রাজা
পৌরসভার বাজেট ছিল জনগণের জন্য, আর রফিকুল ইসলামের জন্য ছিল নিজের পকেট ভারী করার সুযোগ। খাবিখা, টেন্ডার, ভুয়া নিয়োগ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প—যেখানে ঘুষ বা কমিশনের গন্ধ ছিল, সেখানেই রফিকের হাত ছিল।
> ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র হয়েছিলেন, আর মেয়র হয়ে পৌরসভাকে বানিয়েছিলেন নিজস্ব ‘বিকাশ এজেন্সি’।
উন্নয়নের নামে বিলবোর্ডে ছবি, আর মাঠে-ময়দানে শুধুই ধোঁকা। একের পর এক প্রকল্পের অর্থ গায়েব। রাস্তার কাজ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মশানিধন কর্মসূচি—সবই ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে বানিজ্যিক নাটক।
জামায়াত নেতা ওজিয়ার: রাজনৈতিক পতিতাবৃত্তির মুখচ্ছবি
অন্যদিকে অ্যাডভোকেট ওজিয়ার রহমান—যিনি এক সময় কেশবপুরে জামায়াত ইসলামী’র উপজেলা পর্যায়ের মুখপাত্র ছিলেন। জনসমক্ষে যিনি ইসলামি আদর্শ, শহীদের রক্ত, খিলাফত রাষ্ট্রের স্বপ্নের বুলি আওড়াতেন—আজ তিনি দাঁড়ালেন এক চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ আওয়ামী নেতার পক্ষে আদালতে!
এমন নাটকীয় চরিত্রপাল্টে জনগণের ভাষ্য:
> “জামায়াত এখন শুধু নামেই আদর্শের দল, মূলত তারা আওয়ামী লীগপন্থী দুর্নীতিবাজদের টাকার চাকরে পরিণত হয়েছে।”
সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে: আদর্শের দল কীভাবে একজন ভোট ডাকাত ও চাঁদাবাজের জন্য লড়াই করে? এ কি শুধুই আইন পেশার খাতিরে? না কি জামায়াত-আওয়ামী লীগের অপ্রকাশ্য আঁতাতের বহিঃপ্রকাশ?
জনগণের মুখে প্রতিবাদের আগুন
এক জামায়াত কর্মী ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন,
> “আমাদের সংগঠন তো ইসলামী শাসনের কথা বলে। এখন দেখি, দলেরই এক নেতা গিয়ে রফিকের পক্ষে লড়ছে! তাহলে আমরা জনগণের সামনে কী মুখ দেখাবো?”
অন্য এক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন:
> “এই ঘটনা প্রমাণ করে জামায়াত আর আওয়ামী লীগ আজ অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে—তারা একে অপরকে গালি দেয় মঞ্চে, আর রাতে ভাগ করে খায় লুটপাটের টাকা!”
সত্য উন্মোচিত হয়েছে
আজ আর কিছু আড়াল নেই।
– জামায়াত ইসলাম টাকার বিনিময়ে আদর্শ বিক্রি করছে।
– আওয়ামী লীগের দুর্নীতিবাজরা ধর্মীয় লেবাসধারীদের দিয়ে নিজেদের ‘পবিত্রতা’র নাটক সাজাচ্ছে।
কেশবপুরের এই ঘটনা যেন বাংলাদেশের রাজনীতির অসারতা, ভণ্ডামি, এবং জনবিশ্বাস ধ্বংসের একটা কঙ্কাল চিত্র। জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন—
> “ক্ষমতার খেলা কি এতটাই নির্লজ্জ হয়ে গেছে যে, চাঁদাবাজ আর খিলাফতবাদী একই প্লেটে ভাত খায়?”