গোপালগঞ্জে শহীদ জিয়ার উন্নয়নের ইতিহাস অমলিন: জনতার স্মৃতিতে অমর সেই জনসভা
তারেক রহমানের মানবিক নেতৃত্বে বিএনপি আজও বহন করছে ভালোবাসা ও সহমর্মিতার রাজনীতি
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক | যশোর প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ—যেখানে এক সময় আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই গোপালগঞ্জেই ইতিহাস গড়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
১৯৭৮ সালের সেই ঐতিহাসিক সফরে গোপালগঞ্জের অলিগলি, মাঠঘাট, বাজার থেকে শুরু করে গ্রামের স্কুল পর্যন্ত কেঁপে উঠেছিল “জিয়া, জিয়া” ধ্বনিতে।
লাখো জনতা সেদিন ভিড় করেছিল প্রেসিডেন্ট জিয়াকে একনজর দেখার আশায়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ‘গণশিক্ষা কার্যক্রম’ শুরু হয়েছিল এখানেই
বিখ্যাত বই “মৃত্যুঞ্জয় জিয়া”-র ৪৮৩ নম্বর পৃষ্ঠায় বিশিষ্ট গবেষক রুহুল আমিন লিখেছেন—
> “গোপালগঞ্জেই জিয়া গণশিক্ষা বিপ্লবের সূচনা করেন। এখান থেকেই তিনি ঘোষণা দেন, প্রতিটি গ্রামে শিক্ষা পৌঁছে দিতে হবে। এই অঞ্চল হবে শিক্ষার আলোকবর্তিকা।”
এই ঘোষণার পরপরই গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বাস্তবায়িত হয় একাধিক উন্নয়ন কর্মসূচি।
---
উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকা: গোপালগঞ্জের মাটিতে জিয়ার ছোঁয়া
কাশিয়ানী থেকে টুঙ্গিপাড়া:
নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ
শিক্ষকদের জন্য বাড়তি বরাদ্দ
ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বই বিতরণ কর্মসূচি
গোপালগঞ্জ সদর:
পৌরসভার রাস্তাঘাট উন্নয়ন
কৃষি অফিস ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন
ভিজিএফ কার্ডের আওতায় দুঃস্থদের সহায়তা
মুকসুদপুর ও কোটালীপাড়া:
খাল পুনঃখনন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প
স্থানীয় মসজিদ উন্নয়ন তহবিল
মেয়েদের জন্য আলাদা হোস্টেল প্রকল্প
পাটগাতি, উলপুর, হিরকালী:
গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ডিসপেনসারি
যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
মাঠ পর্যায়ে গণশিক্ষা কর্মসূচির ট্রেনিং সেশন
নুরুজ্জামান লিটনের সাক্ষাৎকার: “গোপালগঞ্জেও মানুষ জিয়াকে হৃদয়ে রাখে”
শার্শা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন “বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ”–কে জানান—
> “আজ যারা শহীদ জিয়াকে অবমাননা করে, তারা যেন একবার গোপালগঞ্জের পাটগাতি, উলপুর ঘুরে আসে। দেখবে, মানুষ আজও স্মরণ করে—কে তাদের প্রথম রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে মর্যাদা দিয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন—
> “বিএনপি কখনো হিংসা নয়, ভালোবাসার রাজনীতি করে। এই নীতির ধারাবাহিকতায় জনাব তারেক রহমান নিজে শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করেছেন। এটা প্রমাণ করে—আমরা সম্মান, সহমর্মিতা আর মানুষের প্রতি ভালোবাসায় বিশ্বাস করি।”
---
🌱 বিএনপির ঐতিহ্য ও মানবিকতা: অতীত থেকে আগামীর রাষ্ট্রনীতি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবসময় একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
শহীদ জিয়ার শিক্ষা, উন্নয়ন ও সেবামূলক দর্শনের উত্তরাধিকার বহন করছেন আজকের তারেক রহমান।
নেতাকর্মীদের প্রতি ভালোবাসা, প্রতিপক্ষের প্রতি সহমর্মিতা, এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকার—এই তিন স্তম্ভেই দাঁড়িয়ে আছে বিএনপি।
তারেক রহমানের ঐতিহাসিক কবর জিয়ারতের ঘটনাই আজ প্রমাণ করে, এই দল প্রতিহিংসা নয়—স্মৃতি, শিক্ষা ও শ্রদ্ধা’র রাজনীতি করে।
---
উপসংহার: গোপালগঞ্জে জিয়ার স্মৃতি শুধু ইতিহাস নয়—এটা দিকনির্দেশনা
আজ যখন গোপালগঞ্জে কেউ শহীদ জিয়ার নাম উচ্চারণ করে, তখন সেটা কেবল রাজনৈতিক স্মরণ নয়—
সেটা এক ধরনের দায়, উত্তরাধিকার এবং আত্মপরিচয়ের চর্চা।
গোপালগঞ্জে তিনি শুধু রাস্তা বানাননি, তিনি তৈরি করেছিলেন চেতনার রাস্তাও।
প্রাপ্ত তথ্যসূত্র:
“মৃত্যুঞ্জয় জিয়া” (লেখক: রুহুল আমিন, পৃষ্ঠা ৪৮৩)
সাক্ষাৎকার: আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন, সাধারণ সম্পাদক, শার্শা থানা বিএনপি
মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান, বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ প্রতিনিধি দল।