গোপালগঞ্জে এনসিপি’র পদযাত্রায় আওয়ামী হামলা: বিএনপি মহাসচিবের নিন্দা ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কঠোর প্রতিক্রিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১৬ জুলাই ২০২৫
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’-এ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র হামলার ঘটনায় জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নিন্দা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যশোর জেলার জননন্দিত নেতা আলহাজ্ব অনিন্দা ইসলাম অমিত, যিনি নিজেই ভেরিফায়েড ফেসবুক একাউন্ট থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
---
মহাসচিবের কণ্ঠে ক্ষোভ ও সতর্কতা
বিএনপি মহাসচিব বলেন,
“আওয়ামী সরকার তাদের পতনের আতঙ্কে ভুগছে বলেই বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির যেকোনো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালাচ্ছে। এনসিপির কর্মসূচিতে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা প্রমাণ করে, দেশে গণতন্ত্রের ন্যূনতম পরিবেশ অবশিষ্ট নেই। প্রশাসন ও পুলিশ এখন দলীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগ শুধু তাদের দেউলিয়াত্বকেই প্রমাণ করছে না, বরং জনগণের প্রতিরোধকেই আরও শক্তিশালী করছে। এখন সময় এসেছে — এ সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার।”
---
যশোর থেকে অনিন্দ্য ইসলামের প্রতিবাদ
এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরাসরি নিন্দা জানিয়েছেন যশোরের গণমানুষের নেতা ও খুলনা বিভাগের অভিভাবক আলহাজ্ব অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক একাউন্ট থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলেন:
“আমি মহাসচিব সাহেবের বক্তব্যের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। এই হামলা শুধু এনসিপির উপর নয়, এটা সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির উপর সরাসরি চ্যালেঞ্জ। আওয়ামী লীগকে কখনোই আমরা প্রশ্রয় দেবো না। তাদেরকে সর্বস্তরে রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করতে হবে। যশোর থেকে আমরা শক্ত বার্তা দিতে চাই — বর্বরতার দিন শেষ।”
তিনি আরও বলেন,
“বিএনপি কখনোই কাউকে নিয়ে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করে না — এটাই আমাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার এবং নেতৃত্বের প্রমাণ। কিছুদিন আগে এনসিপির কিছু নেতা তারেক রহমান সম্পর্কে অনভিপ্রেত ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছিল। বিএনপি সেই সময়েও সংযম দেখিয়েছে এবং রাজনৈতিক শালীনতা রক্ষা করেছে। কিন্তু আজ তাদের ওপর বর্বর হামলার ঘটনায় মানবিক ও গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
---
শান্তি চাই, দুর্বৃত্তদের ছাড় নয়
মির্জা ফখরুল ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উভয়েই হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। আহতদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং পুলিশ সদস্যদেরও দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
এই হামলার পর সারাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন করে ঐক্যের আবহ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের বর্বরতা বর্তমান সরকারের আত্মরক্ষামূলক নিপীড়নেরই বহিঃপ্রকাশ।
---
বিবৃতি প্রদান করেন:
মুহাম্মদ মুনির হোসেন
সহ-দফতর সম্পাদক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)