গাজীপুরে ‘শিমু’র অন্ধকার সাম্রাজ্য: বিআইডিসি রোডে মাদক ও দেহব্যবসার রমরমা সিন্ডিকেট
নিজস্ব প্রতিবেদক | গাজীপুর
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বিআইডিসি রোড সংলগ্ন জয়দেবপুর এলাকায় এক ভয়াবহ অপরাধের জাল বিস্তার করেছে এক নারী। ছদ্মনাম ‘শিমু’ হলেও তার নেপথ্য কাহিনী রূপকথার ভিলেনকেও হার মানায়। মাদক ব্যবসা, দেহব্যবসা আর প্রতারণার মাধ্যমে পুরো এলাকায় এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে এই চক্র। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নারী নেত্রী ও জনপ্রতিনিধির আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে দিনের পর দিন এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে সে।
কে এই শিমু? নেপথ্যের পরিচয়
অনুসন্ধানে জানা যায়, শিমুর আসল নাম সোনিয়া সুলতানা। তার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, পিতার নাম মো. বাদল হোসেন এবং মাতার নাম মোসা. ফাতেমা বেগম। গাজীপুর সদর উপজেলার ভোড়া গ্রামের ৫ নং ওয়ার্ড (স্থায়ী ২৯ নং ওয়ার্ড) এলাকায় তার বসবাস।
পারিবারিক জীবনে শিমুর চাতুর্য রীতিমতো বিস্ময়কর। প্রথমে কাজল মিয়া নামক একজনের সাথে সংসার করলেও পরবর্তীতে অপরাধ জগতকে পাকাপোক্ত করতে তাকে ত্যাগ করে। এরপর সে বিয়ে করে এমদাদুল হক ওরফে গামাকে। বর্তমানে গামার স্ত্রী পরিচয়েই সে গাজীপুরের দেহব্যবসা ও মাদক সিন্ডিকেটের অঘোষিত সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত।
অপরাধের কেন্দ্রস্থল: বিআইডিসি রোডের সেই ভিলা
গাজীপুর বিআইডিসি রোডের জয়দেবপুর এলাকায় ‘সুমাইয়া সৌরভ টাওয়ার’ নামক একটি ভবনের ভিলা বর্তমানে এই অসামাজিক কার্যকলাপের প্রধান আস্তানা। এমদাদুল হক গামার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় শিমু এখানে দূর-দূরান্ত থেকে নারীদের এনে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করে এবং মাদকের বড় বড় চালান নিয়ন্ত্রণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নেপথ্যে প্রভাবশালী নারী নেত্রীদের মদদ?
অভিযোগের তীর উঠেছে স্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের দিকে। সূত্র মতে, গাজীপুর ১৩, ১৪ ও ১৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী জুলেখা আক্তার, বাসন থানা মহিলা দলের নেত্রী আমেনা বেগম এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর রোকসানা আহমদ রুজিসহ আরও অনেকের সাথে শিমুর গভীর সখ্যতা রয়েছে। অভিযোগ আছে, এই প্রভাবশালী নারীদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণেই পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বারবার অভিযান চালালেও রহস্যজনকভাবে পার পেয়ে যায় শিমু।
ছাত্রজনতা ও ডুয়েট (DUET) শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ
৫ আগস্টের পরবর্তী বাংলাদেশে যখন সাধারণ মানুষ একটি কলঙ্কমুক্ত সমাজ গড়ার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখন গাজীপুরের প্রাণকেন্দ্রে এমন কর্মকাণ্ড চলায় জনমনে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশেষ করে গাজীপুরের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ডুয়েট (DUET)-এর শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং সচেতন ছাত্রজনতার প্রতি এই সিন্ডিকেট নির্মূলের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তৌহিদী জনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি
এলাকাবাসী এবং ভুক্তভোগীদের দাবি, অনতিবিলম্বে সেনাবাহিনী, র্যাব এবং পুলিশ প্রশাসনকে এই ভিলা ও শিমুর আস্তানায় সাঁড়াশি অভিযান চালাতে হবে। গাজীপুরকে মাদকমুক্ত ও চারিত্রিক অবক্ষয় থেকে বাঁচাতে হলে শিমু এবং তার সহযোগী গামাসহ নেপথ্যের প্রশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
নাগরিক মন্তব্য: "গাজীপুরের মতো শিল্পাঞ্চলে যদি এমন নোংরা বাণিজ্য প্রকাশ্য দিবালোকে চলে, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা চাই দ্রুত এর অবসান হোক।"