কুড়িগ্রামে নাশকতা প্রতিরোধে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামী লীগ ঘরানার ৩ ‘সন্ত্রাসী’ গ্রেফতার
রিপোর্ট:
রফিকুল ইসলাম রফিক
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
নাশকতা প্রতিরোধে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের তৎপরতা জোরদার হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার তিনটি উপজেলায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে তিনজন দুর্ধর্ষ ‘সন্ত্রাসী’কে, যাদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রত্যেকেরই আওয়ামী লীগ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম সদর ও রাজিবপুর থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে পুলিশ বলছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা নাশকতা, সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
ভূরুঙ্গামারীতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পুলিশের জালে
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মোঃ নুরুল ইসলাম (৪৬) দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি এক সময় ছাত্রলীগের সভাপতি, পরবর্তীতে ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সভাপতি হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। এলাকায় ফেরার পর জনতার হাতে আটক হয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর হন। পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে পুরনো ও নতুন মিলিয়ে একাধিক নাশকতা সংশ্লিষ্ট মামলা রয়েছে।
সদরে ‘জয়বাংলা ব্রিগেড’–এর সদস্য গ্রেফতার
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৩৮) নামের এক ব্যক্তি গ্রেফতার হন। তিনি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘জয়বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছিলেন বলে পুলিশের দাবি। পুলিশ আরও জানায়, দীর্ঘদিন পলাতক থাকা অবস্থায় তিনি ও তার নেটওয়ার্ক গোপনে নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
রাজিবপুরে আওয়ামী লীগ নেতা আটক
রাজিবপুর উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু তাহের মোঃ নুরুজ্জামান (৬৬) কে গ্রেফতার করেছে রাজিবপুর থানা পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সময়ে তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতায় নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং একাধিক মামলার আসামি ছিলেন।
পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট: কাউকে ছাড় নয়
কুড়িগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইনচার্জ ও মিডিয়া কর্মকর্তা মোঃ বজলার রহমান নিশ্চিত করেছেন এই তিনজনের গ্রেফতার এবং বলেন, “নাশকতা প্রতিরোধে জেলা পুলিশ নিয়মিত বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। যাদের ধরা হয়েছে, তারা গুরুত্বপূর্ণ সন্ত্রাসী এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এই অভিযান চলবে এবং যেই রাজনৈতিক পরিচয়ধারী হোক না কেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
এই গ্রেফতারগুলো একদিকে যেমন কুড়িগ্রামে চলমান সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসনের সক্রিয়তা প্রকাশ করে, অন্যদিকে তা বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের ভেতরকার চরম বিশৃঙ্খলা এবং দলীয় ক্যাডারদের লাগামহীন আচরণের চিত্রও ফুটিয়ে তোলে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা এমন সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়ে থাকল—দেশের মানুষও দেখতে চায়, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধই বিচার্য হোক।