কালিগঞ্জে 'বাবু সিন্ডিকেটের' মগের মুল্লুক: ৫ই আগস্টের পর লুটপাটের মহোৎসব; 'অপারেশন ক্লিন হার্ট'-এর আদলে শুদ্ধি অভিযানের গণদাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায় ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এস এম হাফিজুর রহমান বাবু এবং ডাক্তার শহিদুল আলম বাবুর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি দুর্ধর্ষ সিন্ডিকেট পুরো এলাকাকে জিম্মি করে ফেলেছে। অভিযোগ উঠেছে, এক সময়ের ‘ফুটপাতের সাধারণ নেতা’রা আজ হাজার কোটি টাকার মালিক। চাঁদাবাজি, লুটপাট আর সন্ত্রাসের মাধ্যমে তারা কালিগঞ্জ বিএনপিকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে ঠেকিয়েছে।
লুটপাটের পাহাড় ও 'ভরাডুবির মাস্টারমাইন্ড'
স্থানীয়দের দাবি, এই সিন্ডিকেট ৫ই আগস্টের পর থেকে কালিগঞ্জের প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার এবং উন্নয়ন প্রকল্প থেকে অবৈধ কমিশন ও চাঁদা আদায় করছে।
ফুটপাত থেকে কোটিপতি: এস এম হাফিজুর রহমান বাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রাতারাতি আলিশান বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়েছেন।
দলের ইমেজ ধ্বংস: ডাক্তার শহিদুল আলম বাবু ও হাফিজুর রহমান বাবুর ব্যক্তিগত লোভের বলি হচ্ছে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। সাধারণ মানুষের ভাষায়, এই দুইজনই কালিগঞ্জে বিএনপির জনপ্রিয়তায় ধস নামানোর মূল কারিগর বা 'মাস্টারমাইন্ড'।
জরুরি দাবি: 'অপারেশন ক্লিন হার্ট' স্টাইলে অভিযান
কালিগঞ্জের বর্তমান অরাজকতা বন্ধে সাধারণ জনগণ এবং সচেতন রাজনৈতিক মহল থেকে 'অপারেশন ক্লিন হার্ট'-এর মতো কঠোর সামরিক বা যৌথ বাহিনীর অভিযানের দাবি উঠেছে। তাদের দাবিগুলো হলো:
অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত: ৫ই আগস্টের পর বাবু সিন্ডিকেট যে পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছে, তা তদন্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করতে হবে।
যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান: রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থাকা এই সব চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের ডেরাগুলো গুঁড়িয়ে দিতে অনতিবিলম্বে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
আজীবন নিষেধাজ্ঞা: যারা দলের নাম ভাঙিয়ে জনগণের ওপর জুলুম করেছে, তাদের রাজনীতিতে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।
শাস্তির হুঁশিয়ারি ও গণবিক্ষোভ
জনসাধারণের আল্টিমেটাম অনুযায়ী, যদি এই সব ‘নামধারী নেতাদের’ বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে কালিগঞ্জের মানুষ নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবে। ৫ই আগস্টের বিপ্লব কোনো চাঁদাবাজ বা লুটপাটকারীকে কোটিপতি বানানোর জন্য ছিল না।
"এই সব ফুটপাতের নেতাদের স্থান হওয়া উচিত কারাগারে, রাজপথে নয়। দলের নাম ব্যবহার করে যারা সাধারণ মানুষকে লুটছে, তাদের ক্ষমা নেই।" — স্থানীয় ভুক্তভোগী জনতা।
উপসংহার
কালিগঞ্জের মাটিকে কলঙ্কমুক্ত করতে এবং বিএনপির মতো বড় দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হাফিজুর রহমান বাবু ও ডাক্তার শহিদুল আলম বাবুর মতো হাইব্রিড নেতাদের সমূলে উৎপাটন করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, তৃণমূলের ক্ষোভের আগুনে পুড়ে ছারখার হতে পারে দীর্ঘদিনের সাজানো বাগান।