কটিয়াদীতে গাউছুল আযম জামে মসজিদে উন্নয়ন কাজে বাধা: শহিদুল হক খোকনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
মোহাম্মদ রুস্তম আলী, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর গালিম খার বাগ এলাকায় অবস্থিত গাউছুল আযম জামে মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিয়ম, ওয়াকফ সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং সাম্প্রতিক সময়ে উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, শহিদুল হক খোকন নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে মসজিদকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
পাঞ্জেখানা থেকে জামে মসজিদ: সূচনার গল্প
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকে শহিদুল হক খোকন নিজ উদ্যোগে একটি পাঞ্জেখানা (ইবাদতখানা) নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে সেটিকে জামে মসজিদে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তিনি তার চাচাতো ভাই মরহুম আবদুল আউয়াল ও মোঃ কলম উদ্দিনকে মসজিদের সম্প্রসারণের প্রয়োজন দেখিয়ে পাশের জমি দান করতে রাজি করান। পরে জমিটি গাউছুল আযম জামে মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, মসজিদ সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হলেও কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
অনুদান সংগ্রহ ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
মসজিদ নির্মাণ ও উন্নয়নকাজের নামে স্থানীয় জনগণ, সরকারি অনুদান, শিল্পপতি ও প্রবাসীদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে সাবেক জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় অর্থ সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেন মরহুম দয়াল সাহেব, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লায়ন আলী আকবর, সাবেক পুলিশ প্রধান ও সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ, ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দসহ বিভিন্ন শিল্পপতি ও প্রবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৩০ বছর অতিক্রান্ত হলেও মসজিদের মূল কাঠামো ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, বিশেষ করে অজুখানা নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি। সংগৃহীত অর্থের সুনির্দিষ্ট হিসাবও প্রকাশ করা হয়নি বলে দাবি তাদের।
হিসাব চাওয়ায় উত্তেজনা, মসজিদে তালা
মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসী হিসাব চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। ২০২৫ সালের রমজান মাসে শহিদুল হক খোকন মসজিদটি নিজের দাবি করে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে বাধা দেন এবং ২৯ রোজা মসজিদে তালা লাগিয়ে দেন বলে স্থানীয়রা জানান।
পরে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হলে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে তালা খুলে দেন এবং মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সুযোগ করে দেন।
অজুখানা নির্মাণে বাধা
মসজিদে অজুখানা না থাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অজুখানা নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, শহিদুল হক খোকন পুলিশ নিয়ে এসে কাজ বন্ধ করে দেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতারণা, হয়রানি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওয়াকফ সম্পত্তি আত্মসাৎ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক ফায়দা হাসিল, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের ভূমিকা প্রত্যাশা
এলাকাবাসীর ভাষ্য, মসজিদ একটি পবিত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান—এটি কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। তাই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং মসজিদের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শহিদুল হক খোকনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।