“ঐক্যের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছিলাম, সেই ঐক্য যেন আমরা ধরে রাখি”—তারেক রহমানের অঙ্গীকারে নতুন রাজনৈতিক বার্তা
রিপোর্ট :নাজমুল হাসান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর রাজনৈতিক বার্তায় স্মরণ করিয়ে দিলেন সেই জাতীয় ঐক্যের কথা, যার শক্তিতে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছিল। তিনি বলেন, “যে ঐক্যের মাধ্যমে আমরা স্বৈরাচারকে বিদায় করেছিলাম, সেই ঐক্য যেন আমরা ধরে রাখি।”
এই বক্তব্যে একদিকে যেমন অতীতের আন্দোলনের ঐতিহাসিক বিজয়কে স্মরণ করা হয়েছে, তেমনি বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কটে জাতির করণীয় নিয়েও একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটায়। এই ঐতিহাসিক বিজয়ের মূলে ছিল জাতীয় ঐক্য ও লক্ষ্যে অটল থাকা। সেই চেতনার পুনরাবৃত্তিই যেন বর্তমান সংকটে করণীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপট ও সংকেত
তারেক রহমানের এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশ এক গভীর রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিতর্কিত নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণগ্রেপ্তার, এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ক্রমশ বিস্ফোরণের পথে।
তারেক রহমান কার্যত জাতিকে আহ্বান জানাচ্ছেন—ব্যক্তিগত স্বার্থ, গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে আরেকটি বৃহত্তর গণঐক্য গঠনের।
জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি কি ফিরবে?
এই প্রশ্ন এখন তীব্রভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। ১/১১-পরবর্তী যুগে রাজনীতি যেভাবে বিভক্ত ও পরস্পরবিরোধী হয়ে উঠেছিল, তার পরিণতি জনগণ এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। অন্যদিকে, গত বছরের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে একাধিক রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির ছাতার নিচে এসে দাঁড়িয়েছে।
তারেক রহমানের বক্তব্য এই বাস্তবতায় কেবল একটি আবেগী স্মৃতি নয়—বরং একটি কৌশলগত দিকনির্দেশনা।
তরুণদের উদ্দেশ্যে বার্তা
নির্যাতিত রাজনৈতিক প্রজন্ম, বিশেষত যুব ও ছাত্র সমাজের উদ্দেশ্যে এই বক্তব্য একটি অনুপ্রেরণার বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, “এই ঐক্য ধরে রাখার” বার্তাটি প্রকারান্তরে বর্তমান তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান—যারা আগামীর বাংলাদেশ গড়বে।
তারেক রহমানের এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে সুসংহত, আবেগতাড়িত এবং ভবিষ্যতমুখী। এটি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষ্য হয়ে উঠতে পারে—যার ভিত্তিতে বাংলাদেশ আবার এক নতুন রাজনৈতিক পালাবদলের পথে হাঁটতে পারে।