ইসরাত জাহান বনাম বসুন্ধরা সাম্রাজ্য: আরেকটি ‘মুনিয়া কাহিনী’?
ক্ষমতার দাপট নাকি বিচারের দাবী?
প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
ঢাকা: বাংলাদেশের কর্পোরেট অঙ্গনে আবারও আলোড়ন তুলেছে এক তরুণীর অভিযোগ। নাম তার ইসরাত জাহান, বয়স কুড়ির কোঠায়, ভোলা জেলার বাসিন্দা হলেও ছোটবেলা থেকেই থাকেন ঢাকায়। বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এই নারী দাবি করেছেন, তার অনাগত সন্তানের পিতা বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহানের ভাই, সানভির সোবহান।
ইসরাতের বক্তব্য অনুযায়ী, সানভিরের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে প্রেম ও বিয়ের প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে। দীর্ঘদিনের শারীরিক সম্পর্কের পর সে অন্তঃসত্ত্বা হলে সানভির তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে মেয়েটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনসমক্ষে অভিযোগ তুলে ধরেন।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়—এই অভিযোগ কতটা সত্য? আর সত্য হলেও বিচার কি আদৌ হবে?
১. যদি অভিযোগ সত্যি হয়, তাহলে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রতারণা ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যা দণ্ডবিধির ৪১৭ ও ৪২০ ধারা অনুযায়ী বিবেচ্য হতে পারে।
২. যদি সম্পর্কটি ইসরাতের সম্মতিতে হয়ে থাকে, তাহলে এখন তার দাবি—সন্তানের পিতৃত্ব ও সামাজিক স্বীকৃতি—মানবাধিকারের প্রশ্ন।
৩. কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই সমাজ কি নারীর সম্মতির পরিণতিকে গ্রহণ করে, নাকি তাকে নীতির মুখপাত্র বানিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়?
২০২১ সালে মুনিয়া নামক এক তরুণীর আত্মহত্যা ও বসুন্ধরা এমডির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আজও স্মৃতিতে গেঁথে আছে। রাষ্ট্র, প্রশাসন এবং সমাজ তখন নীরব দর্শকের ভূমিকা নিয়েছিল।
এবারও আমরা কি সেই একই পথেই হাঁটবো?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে না পারলে আমাদের নৈতিক পতন শুধু সময়ের ব্যাপার।
একটি মেয়ের জীবনে প্রেম হতে পারে, ভুল হতে পারে—কিন্তু সেই ভুলকে ‘চরিত্র’ দিয়ে বিচার করা আমাদের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার নগ্ন প্রমাণ।
এই সমাজে ‘বসুন্ধরা ভাইজান’-রা ক্ষমতা দিয়ে সব কিছু চাপা দিতে চায়। আর মুনিয়া কিংবা ইসরাতেরা থেকে যায় কান্নার পাতায়, সংবাদপত্রের অতীত সংখ্যায়।
এইবার যদি বিচার না হয়—তাহলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।