ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদকে ‘অযোগ্য’ বলে আক্রমণ: গণ অধিকার পরিষদের রাশেদ খানের বিস্ফোরক ফেসবুক পোস্ট
ঢাকা, ২২ জুলাই ২০২৫: অনলাইন ডেস্ক :
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকা এবং তার নির্বাচিত উপদেষ্টাদের কার্যকারিতা নিয়ে এবার সরব হলেন গণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল থেকে দেওয়া এক বিস্ফোরক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন—"ড. ইউনূসের চমৎকার কথা আর মিষ্টি ভঙ্গি জাতিকে মোহাচ্ছন্ন করে রাখলেও, বাস্তবে গত ১ বছরে দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা বা প্রশাসনিক খাতে দৃশ্যমান কোনো সংস্কার হয়নি।"
"কথার ফুলঝুরি ছাড়া অর্জন কী?" — রাশেদের প্রশ্ন
রাশেদ খান তার পোস্টে আরও লেখেন:
> "ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পছন্দের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ১ বছরে স্বাস্থ্যখাতে কোনো পরিবর্তন করতে পেরেছেন কি? এমনকি গতকালের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পরও তার কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষা উপদেষ্টার কথা তো আরও হাস্যকর—তিনি রাত ৩টা নাগাদ পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত দেন!"
"মিষ্টি কথা আর কাগুজে সংস্কারে দেশ চলে না"
তিনি অভিযোগ করেন, এসব উপদেষ্টা কেবল কাগজে সংস্কারের গল্প শোনালেও বাস্তবে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। বরং, পুরনো আমলের মতোই প্রশাসনে ঘুষ-দুর্নীতি চলছে—সচিবালয়, ডিসি, এসপি পদোন্নতিতে এখনো কোটি কোটি টাকার দরাদরি হয়। সেই সুযোগে ‘আওয়ামীপন্থী সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন’ হচ্ছে বলেও দাবি তার।
দুর্নীতি-বাণিজ্যের তদন্ত নেই, দুদক নিষ্ক্রিয়
রাশেদ আরও লেখেন,
> "দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলেও ড. ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদ এসব অভিযোগের কোনো তদন্ত করেনি। দুদককে হাসিনার আমলের মতোই ব্যবহার করা হচ্ছে। দরপত্র পেতে ব্যবসায়ীদের ১০% হারে কমিশন দিতে হয়, এর অংশ কে কে পান, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।"
তিনি প্রশ্ন রাখেন—একটা বছর পার হলেও কেন একবারও নির্ধারিত আর্থিক হিসাব জমা দেওয়া হয়নি?
প্রোফাইলে ইউনূসের ছবি, মুখে তীব্র সমালোচনা
উল্লেখযোগ্য যে, রাশেদ খানের ফেসবুক প্রোফাইলে এখনো ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার একসাথে তোলা ছবি রয়েছে। কিন্তু এবার সেই ‘ভদ্র কূটনৈতিক নীরবতা’ ভেঙে তিনি সরাসরি ইউনূস ও তার নির্বাচিত পরামর্শদাতাদের ‘অযোগ্য’ বলে দোষারোপ করেছেন।
রাজনৈতিক বার্তা নাকি ভাঙনের ইঙ্গিত?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশেদ খানের এই বক্তব্য ইউনূস ঘরানায় থাকা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যেকার ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং আস্থাহীনতারই প্রতিফলন। বিশেষ করে তরুণ রাজনীতিকদের একটি অংশ এই সরকারকে “আওয়ামী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া” মনে করছে—যেখানে গণতন্ত্রের নামে আগের আমলের সুবিধাভোগীদেরই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন এই পোস্ট শুধু একটি প্রতিবাদ নয়, বরং একটি রাজনীতিক পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণাপত্র। ‘পরিবর্তন’-এর নামে যদি পরিবর্তন নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে জনগণের ভরসা হারানো সময়ের ব্যাপার মাত্র। রাশেদের মতো তরুণ নেতাদের কণ্ঠে যে হতাশা ফুটে উঠছে, সেটি আগামী দিনে এই সরকারকে আরও বড় রাজনৈতিক প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।