আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার আমতলী উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালনকালে ভ্যাট, আয়কর, ট্রেড লাইসেন্স ও ট্যাক্সের বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। শুধু অর্থ আত্মসাৎই নয়, নিয়মবহির্ভূতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরিয়ে নেওয়া, দায়িত্ব হস্তান্তরে গড়িমসি, জালিয়াতি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও দাখিল করা হয়েছে।
এসব ঘটনায় বরগুনা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অভিযোগটি নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালকের (ডিডিএলজি) কাছে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলের মতে, তৃণমূল পর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামোয় এ ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা কেবল সরকারি রাজস্বেরই ক্ষতি করছে না, বরং রূপকল্প-২০৪১ ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
১. আঠারগাছিয়া ও গুলিশাখালী ইউনিয়নে রাজস্ব বঞ্চনা ও নথিপত্র গায়েব
বরগুনা জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করা লিখিত অভিযোগে ৩ নম্বর আঠারগাছিয়া ও ১ নম্বর গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাজিবুল ইসলাম জানান,
গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তিনি আঠারগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদে অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদে মূল দায়িত্ব নিয়ে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই পূর্ববর্তী সময়কালের ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের চিত্র তাঁর নজরে আসে।
অভিযোগে উল্লেখিত গাণিতিক অনিয়মের চিত্র:
আঠারগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ: স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করের (১ শতাংশ) বরাদ্দ করা ১৪ লাখ ৯৯ হাজার ৮১২ টাকার বিপরীতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও আয়কর বাবদ ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৭১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি, ট্রেড লাইসেন্স বাবদ আদায় করা ৬৫ হাজার ৮০০ টাকার ১৫ শতাংশ ভ্যাট ৯ হাজার ৮৭০ টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ: স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করের (১ শতাংশ) ১২ লাখ ১ হাজার ৯১৭ টাকার বিপরীতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও আয়কর বাবদ ১ লাখ ৮০ ২৫৭ টাকা এবং হাটবাজার তহবিলের ৫ লাখ ৬০ হাজার ৫৯৬ টাকার বিপরীতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও আয়কর বাবদ ৮৪ হাজার ৮৯ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি।
এছাড়া, দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় পরিষদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও অফিশিয়াল নথিপত্র নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের সাথে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রাজিবুল ইসলাম করেন।
২. প্রশাসনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ, দায়িত্ব হস্তান্তরে বাধা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ
প্রশাসনিক বিধিমালা অনুযায়ী বদলি বা নতুন কর্মকর্তা যোগদানের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর বাধ্যতামূলক। তবে অভিযোগে জানা যায়, আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কঠোর হস্তক্ষেপে নতুন কর্মকর্তা দায়িত্ব পেলেও অফিশিয়াল আদেশের সময়সীমা (৭ এপ্রিল) মেনে জাকির হোসেন দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি। দিনের পর দিন তাঁকে ঘোরানো হয় এবং মোবাইল বন্ধ রেখে গা ঢাকা দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে ২৬ এপ্রিল দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় জাকির হোসেন অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তিনি নতুন কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্যে করে বলেন:
“তোমার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কথায় কি আমাকে চার্জ হস্তান্তর করাতে পারছো?”
দীর্ঘদিন একই উপজেলায় কর্মরত থাকার সুবাদে অন্য কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানদের প্ররোচিত করে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বিঘ্নিত করার মতো গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে।
৩. আমতলী ইউনিয়ন পরিষদ: রেজিস্টার জালিয়াতি ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা
অন্যদিকে, ৬ নম্বর আমতলী ইউনিয়ন পরিষদেও জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। আমতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ৬ নম্বর আমতলী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. মনজুরুল হক কাওছার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন:
ট্রেড লাইসেন্স জালিয়াতি: জাকির হোসেন দুই শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় করে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করলেও অফিশিয়াল রেজিস্টার খাতায় মাত্র ৯০ জনের তথ্য লিপিবদ্ধ করেছেন। বাকি অর্ধেকের বেশি লাইসেন্সের অর্থ সরকারি হিসাবে ঢোকেনি।
অনুমোদনহীন স্বাক্ষর ও ট্যাক্স আত্মসাৎ: প্রশাসকের স্বাক্ষর না নিয়ে অবৈধভাবে ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যের স্বাক্ষর গ্রহণের মাধ্যমে ফাইল চালনা করা হয়েছে। গত পাঁচ মাসে সংগৃহীত সমস্ত ট্যাক্সের অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
দুর্নীতিমূলক চ্যালেঞ্জিং বক্তব্য: অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে জাকির হোসেন উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বলেন:
“আমার চাকরির ৩২ বছর জীবনে কখনো ট্যাক্স এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন বাবদ টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা দিইনি, এই টাকার একমাত্র अधिकार সচিবের।”
রাজনৈতিক ট্যাগিং ও মানসিক নির্যাতন: ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় বা ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে হেয়প্রতিপন্ন করা ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
৪. আইন, আদালত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ
বাংলাদেশের সরকারি চাকরি আইন, penal code এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের আওতায় সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ একটি গুরুতর আমলযোগ্য অপরাধ।
দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন: সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং নথিপত্র গোপন/নষ্ট করার অপরাধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪৬৭/৪৭১ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি ফৌজদারি মামলা দায়েরের স্পষ্ট বিধান রয়েছে।
তদন্তপ্রক্রিয়া: বরগুনা জেলা প্রশাসকের দপ্তরের নির্দেশনায় বর্তমানে জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত, বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের মামলা এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ ভূ-সম্পত্তি বা বেতন-ভাতা থেকে পুনরুদ্ধারের (Recovery) আইনি সুযোগ রয়েছে।
৫. মাস্টার প্ল্যানিং: দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকারের সংস্কার ভাবনা
একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থানীয় টেকসই উন্নয়ন নির্ভর করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকারের উপর। আমতলীর ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়, এটি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
[ আমতলী ইউপি অনিয়ম ]
[ আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ ] [ মাস্টার প্ল্যানিং ও সংস্কার ]
[তদন্ত ও উদ্ধার] [বিভাগীয় মামলা] [দুদক আইন প্রয়োগ] [ডিজিটাল অটোমেশন] [সেন্ট্রাল অডিট] [সিটিজেন চার্টার]
ভবিষ্যৎ উন্নয়নে করণীয় ও মাস্টার প্ল্যান:
১. সম্পূর্ণ ডিজিটাল রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (Smart Union Parishod.)
ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স এবং ১% স্থাবর সম্পত্তি কর আদায়ের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ক্যাশলেস ও অনলাইনভিত্তিক করতে হবে। কিউআর কোড যুক্ত ডিজিটাল ই-লাইসেন্স চালু করলে ম্যানুয়ালি রেজিস্টার ফাঁকি দেওয়া বা ভুয়া লাইসেন্স ইস্যু করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
২. নিয়মিত সেন্ট্রাল ও লোকাল অডিট:
ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে অন্তত ৬ মাস পর পর রাজস্ব ও সরকারি বরাদ্দের ওপর অডিট পরিচালনা করা উচিত। স্থানীয় সমাজসেবা কর্মকর্তা বা ইউএনও দপ্তরের মাধ্যমে আকস্মিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
৩. প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বদলি নীতি বাস্তবায়ন:
একই উপজেলা বা জেলায় দীর্ঘদিন কোনো কর্মকর্তাকে পদায়ন না রেখে নির্দিষ্ট সময় পরপর বদলির বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন, যাতে স্থানীয় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তার না ঘটে।
৪. জনগণের অংশগ্রহণ ও তথ্য অধিকার (Citizen Charter):
ইউনিয়ন পরিষদে কত রাজস্ব আদায় হলো এবং কোথায় জমা হলো, তা নোটিশ বোর্ডে ও সিটিজেন চার্টারে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
দক্ষিণ উপকূলীয় বরগুনা জেলার আমতলীর মতো উপজেলায় যখন সরকারের পক্ষ থেকে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে, তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সচিবের এমন স্বেচ্ছাচারিতা ও রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি—নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারের আত্মসাৎকৃত প্রতিটি টাকা উদ্ধার করা হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার করার দুঃসাহস না পায়।
বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ভীতিপ্রদ অনিয়ম, ডিজিটাল প্রতারণা ও সরকারি কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ওয়েবসাইটে ভুয়া ও অস্তিত্বহীন ইমেইল ব্যবহার করে নাগরিক সেবা ব্যাহত করা থেকে শুরু করে, হাট-বাজারের তহবিল, ট্রেড লাইসেন্স ও স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ১% করের কোটি কোটি টাকার ভ্যাট-আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করার তথ্য উদঘাটিত হয়েছে।
১. ডিজিটাল প্রতারণা ও অস্তিত্বহীন ইমেইল আড়াল:
সরকারি দাপ্তরিক তথ্যে মোঃ জাকির হোসেনের ইমেইল হিসেবে MDZAKIHOSSEN293@GMAIL.COM ব্যবহার করা হলেও অনুসন্ধানে দেখা যায়, গুগলে এই ইমেইল অ্যাকাউন্টের কোনো অস্তিত্বই নেই। ইমেইল পাঠালে জিমেইল থেকে “550 5.1.1 The email account that you tried to reach does not exist” বার্তা ফেরত আসছে।

একজন দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তার অফিশিয়াল প্রোফাইলে অস্তিত্বহীন ও ভুয়া মেইল ব্যবহার করার পেছনে কোনো বড় ধরনের অপকর্ম ও তথ্য গোপন করার চক্রান্ত লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।
২. দুর্নীতির খতিয়ান ও সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ:
অভিযোগপত্রে দেখা যায়, দীর্ঘদিন আমতলীতে অবস্থান করার সুবাদে তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের প্রভাবিত করে একছত্র অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।
ট্রেড লাইসেন্স ও ট্যাক্সের কোটি টাকা লোপাট: ০৬ নং আমতলী ইউপি-তে ২০০ জনের বেশি ব্যক্তির কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্সের ফি গ্রহণ করলেও রেজিস্টারে মাত্র ৯০ জনের তথ্য রাখা হয়েছে। বাকি টাকা সরকারি ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করেন। এ বিষয়ে আমতলী ইউপি প্রশাসক ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ মনজুরুল হক প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বদলি ও বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ করেছেন।
ভ্যাট ও আয়কর গায়েব: ০৩ নং আঠারগাছিয়া ও ০১ নং গুলিশাখালী ইউপি-তে দায়িত্ব পালনকালে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর কর, হাট-বাজার তহবিল ও ট্রেড লাইসেন্স বাবদ আদায়কৃত লাখ লাখ টাকার ভ্যাট ও আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন এবং মূল ফাইলপত্র গায়েব করে দিয়েছেন।
৩. অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রাজিবুল ইসলামের প্রতিবাদ:
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে আমতলীর নবাগত ও তরুণ ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম সরকারি রাজস্ব রক্ষার স্বার্থে এই অপরাধ চক্রের সমস্ত প্রমানপত্রসহ জেলা প্রশাসক (বরগুনা) বরাবর আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। কিন্তু একটি প্রভাবশালী চক্র দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা এই তরুণ সৎ কর্মকর্তাকে নানাভাবে হয়রানি ও তাঁর কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
৪. হাইকমান্ড ও উর্ধ্বতন প্রশাসনের প্রতি আকুল আবেদন ও দাবি:
সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দেশের রাজস্ব রক্ষার্থে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্থানীয় সরকার বিভাগ ও উর্ধ্বতন হাইকমান্ডের কাছে সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক ও স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও হিসাব-নিকাশ: মোঃ জাকির হোসেনের নামে-বেনামে অর্জিত সকল স্থাবর ও অস্থানর সম্পত্তির উৎস সন্ধান করতে হবে। তাঁর সমস্ত অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সরকারি খাতায় জমা করার দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
তৎক্ষণাৎ বরখাস্ত ও আইনের আওতায় আনয়ন: অনতিবিলম্বে এ ধরনের দুর্ধর্ষ দুর্নীতিবাজকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে হবে।
সৎ কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলামের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা: অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা তরুণ কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলামকে সব ধরনের প্রশাসনিক সুরক্ষা প্রদান করতে হবে, যাতে কোনো অপশক্তি তাঁর ক্ষতি বা কর্মস্থলে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে।
ডিজিটাল কারচুপি ও ফাইল গায়েবের তদন্ত: সরকারি তথ্য বাতায়নে ভুয়া ইমেইল দেওয়া এবং সরকারি নথিপত্র গায়েব করার অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা আইনে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা।
এ ধরনের অপরাধচক্র প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিদ্যমান থাকলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুশাসন ব্যবস্থা ধসে পড়বে। উর্ধ্বতন জেলা প্রশাসন ও হাইকমান্ডের কাছ থেকে এখনই এর দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে আমতলীবাসী।
অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা জানতে অভিযুক্ত ইউপি কর্মকর্তা জাকির হোসেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। অবশেষে গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর, ২০২৬) রাত ৯:০২ মিনিটে তিনি ফোন রিসিভ করেন। প্রায় ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সেই ফোনালাপে মূল অভিযোগের (ভ্যাট-ট্যাক্স লোপাট ও ভুয়া ইমেইল) কোনো স্পষ্ট জবাব না দিয়ে তিনি উল্টো ব্যক্তিকেন্দ্রিক গল্প ও ক্ষমতার প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করেন।
প্রশ্ন ও ক্ষোভ: অভিযোগ কি ভিত্তিহীন, নাকি ভয় পেয়ে রাজনৈতিক আড়াল?
এখন প্রশ্ন উঠছে?একজন দায়িত্বশীল সরকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তা যখন সহকর্মীর লিখিত অভিযোগকে "ছোট মানুষের ভুল" বলে ক্ষমা করার নাটক সাজান, তখন তিনি মূলত সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন না তো? সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কোনো সঠিক তথ্য-প্রমাণ ছাড়া সরকারি কোষাগারের টাকা লোপাটের অভিযোগ আনা যেমন শাস্তিযোগ্য অপরাধ, ঠিক তেমনি অপরাধ প্রমাণ হওয়ার ভয়ে রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টাও সমান অপরাধ।
যদি অভিযোগকারী তরুণ কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন, তবে জাকির হোসেন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় জবাব না দিয়ে সাংবাদিকদের সাথে চক্রান্তমূলক কথা বলছেন কেন?
৪. হাইকমান্ড ও প্রশাসনের প্রতি জরুরি দাবি:
দেশের রাজস্ব রক্ষা এবং দুর্নীতিবাজদের কঠোর বার্তা দিতে বরগুনা জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সচেতন মহল:
স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব ও বাজেয়াপ্তকরণ: জাকির হোসেনের দীর্ঘ চাকরিজীবনে অর্জিত নামে-বেনামে সমস্ত স্থাবর ও অস্থানর সম্পত্তির উৎস অনুসন্ধান করে অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত: অফিশিয়াল নথিপত্রে কারচুপি, ভ্যাট-ট্যাক্স লোপাট ও জালিয়াতির দায়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিবাদী কর্মকর্তার নিরাপত্তা: ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কোনো সৎ ও তরুণ কর্মকর্তাকে যাতে হয়রানি বা মুখ বন্ধ করানো না যায়, তার প্রশাসনিক সুরক্ষা দিতে হবে।
অপরাধ ঢাকার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের নাম ব্যবহার কিংবা সাংবাদিকদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে দুর্নীতির দাগ মোছা যায় না। দুর্নীতিবাজদের অপরাধের সাম্রাজ্য ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে এখন প্রয়োজন প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ।