আগস্টের আগুনে গড়া শহিদ ওয়াসিম এবং ছাত্রদল: রক্তে লেখা এক গণতান্ত্রিক মহাকাব্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১৫ জুলাই ২০২৫:
যে সময়টায় ইতিহাস লিখেছে রক্ত দিয়ে, সেই সময়ই ছিল জুলাই ও আগস্ট। এবং যারা কলমের বদলে বুক দিয়ে সেই ইতিহাস লিখেছে, তারা বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ—বিশেষত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এই সংগঠনের তরুণ নেতাকর্মীরাই হয়ে উঠেছে বর্তমান বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রধান ইঞ্জিন।
চট্টগ্রামের শহিদ ওয়াসিম আকরাম এই সময়েরই এক উজ্জ্বলতম নাম। তিনি কোনো সরকারি চাকরির প্রত্যাশী ছিলেন না। ওয়াসিম জানতেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের শাসনকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জন্য চাকরি নয়, বরং নির্যাতন ও অবরুদ্ধ জীবন অপেক্ষা করে। তাই তিনি বেছে নিয়েছিলেন সংগ্রাম—চাকরি নয়, তিনি চেয়েছিলেন একটি মুক্ত বাংলাদেশ।
ওয়াসিমের ডাক: “চলে আসুন ষোলশহরে!”
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, সেখানে ওয়াসিম ছিলেন সম্মুখসারির নেতা। তিনি একা নন, তিনি সবাইকে নিয়ে নামতে বলেছিলেন রাজপথে। বলেছিলেন,
“চলে আসুন ষোলশহরে”—এই ডাক ছিল বিদ্রোহের বজ্রনিনাদ। একটি অবরুদ্ধ সময়ের ভিত কাঁপানো আহ্বান।
ওয়াসিম ছিলেন চট্টগ্রামের ছাত্রদলের গর্ব। তার প্রতিরোধ, তার রক্ত, তার মৃত্যুও আজ বিএনপি পরিবারের প্রতিটি হৃদয়ে গর্বের এক বেদিচিহ্ন। শহরের ব্যারিকেড পেরিয়ে তরুণ যোদ্ধাদের মতোই সামনে এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি—ফ্যাসিবাদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।
নাসির উদ্দিন: “৯০ শতাংশ শহিদ ছাত্রদলের”
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন—
> “আগস্টে যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের ৯০ শতাংশই ছাত্রদলের নেতাকর্মী। কেউ কোটা চায়নি, কেউ চাকরি চায়নি। তারা চেয়েছিল মুক্তি। গণতন্ত্র। বাংলাদেশ। এটাই ছাত্রদলের পরিচয়।”
তিনি আরও বলেন,
> “ছাত্রদল মানে শুধু স্লোগান নয়, ছাত্রদল মানে বুক দিয়ে দেশ আগলে রাখা। যারা আগস্টে শহিদ হয়েছে, তারা প্রমাণ করে গেছে—আসল নেতৃত্ব জন্ম নেয় প্রতিরোধে, বইয়ের পৃষ্ঠায় নয়, রাজপথের রক্তে।”
জুলাই-আগস্ট: ছাত্রদলের রক্তস্নাত জয়যাত্রা
এই দুই মাসে শহীদ হয়েছে অসংখ্য ছাত্রদল নেতা-কর্মী। রংপুরের আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরাম, খুলনার জাহিদ, বরিশালের রাশেদ—নাম শুধু কয়টির, কিন্তু শহিদদের তালিকা দীর্ঘ, হৃদয়বিদারক ও গর্বময়।
তাদের কারো বয়স ছিল ২০, কারো ২৫। তারা কেউই সন্ত্রাসী ছিল না, কেউই অস্ত্রধারী ছিল না। তারা ছিল ব্যাগ কাঁধে বইপড়া তরুণ—তাদের হাতে ছিল পতাকা, মুখে ছিল শ্লোগান, আর হৃদয়ে ছিল তারেক রহমানের স্বপ্ন।
ছাত্রদলের মা-বোনেরা: কান্নায় নয়, গর্বে কাঁপে জাতি
আজ যেসব মা কাঁদেন সন্তানের জন্য, তারা আর্তনাদ করেন না, বরং দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন,
“আমার ছেলে ছাত্রদল করতো, শহীদ হয়েছে বাংলাদেশ বাঁচাতে।”
এই নতুন মা-বোনেরা এখন শহিদদের ছবিতে প্রদীপ জ্বালান, চোখ মুছে বলেন—আমরা শহিদদের রক্তের দাম বুঝি, ভোটের বিনিময়ে বিক্রি করবো না। ছাত্রদলের রক্তের কাছে আমরা দায়বদ্ধ।
ছাত্রদল মানেই প্রতিরোধ, ছাত্রদল মানেই আগুনঝরা নেতৃত্ব
এই প্রজন্মের ছাত্রদল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। তাদের সাহস, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব এবং আত্মত্যাগ এক নতুন রাজনৈতিক ইতিহাস রচনা করছে।
তারা ফেসবুকের ফ্রেম বদল করে না, মাঠ বদলায়। তারা শপথ করে,
“আমার নেতা তারেক রহমান, আমার পরিচয় শহিদের উত্তরসূরি।”
---
শেষ কথা নয়, শুরু—ওয়াসিমের রক্তে লেখা হবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ
ওয়াসিম একা যাননি—সাথে নিয়ে গেছেন একটা পতাকা, একটা চেতনা, একটা প্রজন্মের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন আজো বহমান—বুকে আগুন নিয়ে হাজার হাজার ছাত্রদল কর্মী আজো রাজপথে, কোনো মিডিয়ার ক্যামেরা না থাকলেও।
এই ছাত্রদল হার মানে না। এই ছাত্রদল মাথা নত করে না। এই ছাত্রদলই একদিন নেতৃত্ব দেবে সেই বাংলাদেশকে—যেখানে আর কোনো ওয়াসিমকে প্রাণ দিতে হবে না, শুধু পতাকা উড়াতে হবে।
---
স্লোগান হোক— “বীর নেতৃত্ব বিএনপির, অস্তিত্ব ছাত্রদলের—এই বাংলাদেশ শহিদদের।”
#ছাত্রদল_অমর_হোক #শহিদ_ওয়াসিম #আগস্ট_বিপ্লব #নতুন_বাংলাদেশ #DailyProthomBangladesh
-