তারিখ: ২ আগস্ট ২০২৫
প্রকাশক: দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
স্লোগান: জনতার কণ্ঠস্বর
আওয়ামী লীগপন্থী পেইজে কুমিল্লার এসপি নাজীর আহমেদ খানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার: সত্য পথে থাকাই কি অপরাধ?
কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার নাজীর আহমেদ খানকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়েছে একটি আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ ফেসবুক পেইজ থেকে। প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে তার বিরুদ্ধে এমন অনভিপ্রেত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—তিনি কি আদৌ সরকারের রোষানলে পড়েছেন নাকি সত্য ও নিরপেক্ষতার পথেই ছিলেন?
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন জনপ্রিয় অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন তার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি লেখেন—
"খান সাহেব, (নাজীর আহমেদ খান, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার) আওয়ামী লীগের পেইজে আপনার বিরুদ্ধে এই পোস্ট করেছে! তার মানে আপনি সঠিক পথে আছেন৷ চালিয়ে যান, পাশে আছি, কাজে লাগলে আওয়াজ দিয়েন।"
এই বক্তব্যের পরপরই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় প্রশাসন ও নাগরিক সমাজে। নেটিজেনদের অনেকেই একমত পোষণ করেন যে, পুলিশ সুপার নাজীর আহমেদ খান নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই কাজ করছিলেন, এবং তাতেই ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী অস্বস্তিতে পড়ে তার বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারে নেমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভেতরেও কিছু সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা আছেন, যারা ব্যক্তিগত এবং দলীয় চাপের ঊর্ধ্বে থেকে জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের জন্য কাজ করছেন। ঠিক তেমনি এক কর্মকর্তার নাম নাজীর আহমেদ খান।
তবে এই অপপ্রচারে আওয়ামী লীগের কোনো কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় পর্যায়ের নেতার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা এখনো নিশ্চিত না হলেও, সংশ্লিষ্ট পেইজটি যে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ বা সমর্থক শ্রেণির দ্বারা পরিচালিত, সে বিষয়ে সংশয় নেই। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট এবং তা দিয়ে একটি উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টাকে অনেকেই গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন।
প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা আজ বাংলাদেশে এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সৎ অফিসারদের প্রতি আক্রমণ, কুৎসা রটানো ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার সংস্কৃতি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক্ষেত্রে যদি রাষ্ট্রযন্ত্র নিরপেক্ষতা হারায়, তাহলে নাগরিকদের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রশ্নের মুখে পড়বে—এমন উদ্বেগ জানান রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও।
নাজীর আহমেদ খান এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না জানালেও, দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের একাংশ তার সাহসী অবস্থানের পাশে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান এই আলোচনা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয়—সত্য পথে থাকার মূল্য চুকাতে হয়, কিন্তু সাহসী মানুষের পাশে জনতা থাকে।