অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বাড়ছে অপরাধের থাবা: সুরক্ষায় আপনার করণীয় ও আইনি সমাধান
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বর্তমানে বাংলাদেশে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরাধ প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটানো থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা—সবক্ষেত্রেই অপরাধীরা এই প্ল্যাটফর্মগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে সচেতনতা এবং সঠিক আইনি পদক্ষেপ এই অপরাধ দমন করতে পারে।
ফেসবুকে যা অপরাধ হিসেবে গণ্য
ফেসবুক বা অনলাইনে নিচের বিষয়গুলো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ:
মিথ্যা, অশ্লীল বা নীতিভ্রষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ।
কারও মানহানি ঘটে এমন স্ট্যাটাস বা ট্যাগ।
আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় এমন উসকানিমূলক লেখা।
রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা।
ধর্মীয় অনুভূতি, জাত বা বর্ণে আঘাত হানার মতো বক্তব্য।
এছাড়াও সাইবার বুলিং, অনলাইন স্ক্যাম (বিনিয়োগ প্রতারণা), হ্যাকিং, পরিচয় চুরি এবং কপিরাইট লঙ্ঘন বর্তমানে অন্যতম প্রধান সাইবার অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
আপনার ফেসবুক সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে
হ্যাকিং থেকে বাঁচতে সাইবার বিশেষজ্ঞরা কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন:
জটিল পাসওয়ার্ড: নাম বা জন্মতারিখ বাদে অক্ষর, সংখ্যা ও চিহ্নের মিশ্রণে কঠিন পাসওয়ার্ড দিন।
টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন: এটি অবশ্যই চালু রাখুন যেন পাসওয়ার্ড জানলেও কেউ কোড ছাড়া লগইন করতে না পারে।
সন্দেহজনক লিঙ্ক: ইনবক্সে আসা লোভনীয় বা ভীতিজনক কোনো লিঙ্কে ক্লিক করবেন না।
সফটওয়্যার আপডেট: মোবাইল ও পিসির অপারেটিং সিস্টেম সবসময় আপ-টু-ডেট রাখুন।
লগ-আউট: পাবলিক কম্পিউটারে ব্যবহারের পর অবশ্যই লগ-আউট নিশ্চিত করুন।
ফেক আইডি বা ভুয়া পেজ নিয়ে হয়রানি হলে করণীয়
যদি কেউ আপনার ছবি বা নাম ব্যবহার করে ভুয়া আইডি খুলে প্রতারণা বা খারাপ পোস্ট করে, তবে নিচের পদক্ষেপগুলো নিন:
রিপোর্ট করুন: ওই প্রোফাইলের ৩-ডট মেনুতে গিয়ে Find Support or Report Profile অপশনে যান। এরপর Pretending to be someone থেকে Me (নিজের ক্ষেত্রে) অথবা A Friend (বন্ধুর ক্ষেত্রে) সিলেক্ট করে রিপোর্ট সম্পন্ন করুন।
আইনি ব্যবস্থা: সাথে সাথে নিকটস্থ থানায় জিডি করুন। সাধারণ ডায়েরি করা থাকলে ওই ভুয়া আইডির অপরাধের দায় আপনার ওপর পড়বে না।
সরাসরি অভিযোগ: গুরুতর সমস্যায় সাইবার পুলিশ সেন্টার (CID)-এ যোগাযোগ করুন।
জরুরি যোগাযোগের ঠিকানা:
হটলাইন নম্বর: 01320-010148
অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ: facebook.com/cpccidbdpolice
সাইবার অপরাধের শাস্তির বিধান
বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২ অনুযায়ী কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে:
পরিচয় প্রতারণা (ধারা ২৪): ছদ্মবেশ ধারণ করে অপরাধ করলে সাজা।
মানহানি ও ভীতি প্রদর্শন (ধারা ২৫ ও ২৯): অনলাইনে সম্মানহানি করলে জেল ও জরিমানা।
হ্যাকিং (ধারা ৩৪): বিনা অনুমতিতে অন্যের সিস্টেমে প্রবেশ ও ক্ষতি করা।
পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ (ধারা ৮): পর্নোগ্রাফি উৎপাদন বা এর মাধ্যমে সম্মানহানি করলে কঠোর দণ্ড।
সাইবার অপরাধের শিকার হলে ঘাবড়ে না গিয়ে দ্রুত আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।